টাচস্ক্রিনের উত্থান ও ব্ল্যাকবেরির পতন – The Finance BD
 ঢাকা     শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন

টাচস্ক্রিনের উত্থান ও ব্ল্যাকবেরির পতন

  • ০৪/০৩/২০২৫

মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে ২০০০ সালের শুরুর দিকে ‘ব্ল্যাকবেরি’ ছিল একটি পরিচিত নাম। ডিভাইসের আইকনিক ফিজিক্যাল ‘কিউওয়ার্টি’ কি-বোর্ড ও সুরক্ষিত ই-মেইল সিস্টেমের জন্য ব্র্যান্ডটির ফোন ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে টাচস্ক্রিন স্মার্টফোনের আগমন মোবাইল ফোনের দৃশ্যপট পুরোপুরি পরিবর্তন করে। এর পরই আধিপত্যের পতন ঘটে ব্ল্যাকবেরির
টাচস্ক্রিন প্রযুক্তির উত্থান: টাচস্ক্রিন অপসারণের জন্য প্রাথমিক প্রতিবাদের পরও স্মার্টফোন শিল্পের মান পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইফোন। ২০০৭ সালে প্রথম আইফোনটি নজরকাড়া ডিজাইন ও সহজ ডিজিটাল ইউআই (ইউজার ইন্টারফেস) নিয়ে মুক্তি পায়। এর পরই ব্যবহারকারীদের নতুন একটি অভিজ্ঞতা দেয় টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি। স্মার্টফোন বা ডিভাইসের স্ক্রিনে আঙুলের স্পর্শ বা জেসচারের (যেমন সোয়াইপ, ট্যাপ, পিঞ্চ) মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন বা প্রোগ্রাম চালানো সহজ হয়। এ পরিবর্তন মানুষকে ফিজিক্যাল কি-বোর্ডের পরিবর্তে নতুন প্রযুক্তিতে আগ্রহ তৈরি করে, যা ফোন ব্যবহারের ধারা সম্পূর্ণ বদলে দেয়। খুব কম সময়ের মধ্যে ফিজিক্যাল কি-বোর্ডের পরিবর্তে ব্যবহারকারীরা টাচস্ক্রিন পছন্দ করতে শুরু করে।
ব্ল্যাকবেরির সংগ্রাম: ব্ল্যাকবেরি মূলত কিউওয়ার্টি কি-বোর্ড ও নিরাপত্তা ফিচারের প্রতি মনোযোগ দিতে চেয়েছিল। যদিও এটি কিছু ব্যবহারকারীর জন্য অপরিহার্য ছিল, তবে কোম্পানিটি একসময় বাজার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খায়। অন্য কোম্পানিগুলো ফুলস্ক্রিন ডিসপ্লে ও উন্নত অ্যাপ ইকোসিস্টেম নিয়ে এগিয়ে গেলেও ব্ল্যাকবেরি নিজের ঐতিহ্যবাহী কি-বোর্ড ও ব্যবসাকেন্দ্রিক ফিচারগুলোকেই প্রাধান্য দিতে থাকে। এমন সময় দ্রুত বাজার দখল করে নেয় স্মার্টফোন আর এ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে ব্ল্যাকবেরি।

ভোক্তার পছন্দের পরিবর্তন: সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফোন ব্যবহারকারীরা ফিজিক্যাল কি-বোর্ডের চেয়ে টাচস্ক্রিনের সুবিধাগুলো বুঝতে শুরু করে। অত্যাধুনিক স্মার্টফোনের পাশে ব্ল্যাকবেরির ডিভাইসগুলো পুরনো ও কম আকর্ষণীয় মনে হতে থাকে। ব্যবহারকারীরা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ও গেমিংয়ের দিকে ঝুঁকলে ব্ল্যাকবেরির পতন ত্বরান্বিত হয়। কারণ এসব কাজ বড় স্ক্রিনযুক্ত ফোনে ভালোমতো উপভোগ করা যায়, যা ব্ল্যাকবেরির ডিভাইসে ছিল না।

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি ও পেশাদার কর্মক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল ব্ল্যাকবেরি। কারণ করপোরেট জগতে নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে পরবর্তী সময় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও এমন ফোন পছন্দ করতে শুরু করে, যা নিরাপত্তার পাশাপাশি আধুনিক অভিজ্ঞতাও দিতে পারে। কোম্পানিগুলো যখন বিভিন্ন অ্যাপ ও পরিষেবা ব্যবহার করা প্লাটফর্ম গ্রহণ করতে শুরু করে, তখন টাচস্ক্রিন স্মার্টফোন একটি প্রয়োজনীয় ডিভাইস হয়ে ওঠে। ব্ল্যাকবেরি প্রযুক্তির পরিবর্তন ও বাজারের চাহিদার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে না পারার কারণে তারা ব্যবসায়িক গ্রাহক হারায়।
ইনভেস্টোপিডিয়া বলছে, আইফোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে ২০০৮ সালে ‘স্টর্ম’ নামে প্রথম টাচস্ক্রিন ফোন চালু করে ব্ল্যাকবেরি। শুরুতে ফোনটির বিক্রি আশানুরূপ হলেও দ্রুতই এর কার্যক্ষমতা নিয়ে অভিযোগ আসতে শুরু করে। এ সময় থেকেই বিনিয়োগকারী, বিশ্লেষকরা ব্ল্যাকবেরির ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে শুরু করেন।
২০১৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রিসার্চ ইন মোশন (রিম) নামে পরিচিত ছিল ব্ল্যাকবেরি লিমিটেড। সাফল্য ও ব্যর্থতার এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে প্রযুক্তি কোম্পানিটির। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা বিশ্বে ব্ল্যাকবেরির সাবস্ক্রাইবার ছিল ৮ কোটি ৫০ লাখ। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্ম ও অ্যাপলের আইওএস টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি নিয়ে বাজারে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে এ সংখ্যা কমতে শুরু করে। ব্ল্যাকবেরির শেয়ারদর ২০১১ সালের ১৪৭ ডলার থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ৩ ডলারে পৌঁছায়। —গিজমোচায়না অবলম্বনে

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us