পদত্যাগপত্রে জাভেদ জারিফ লিখেছেন, গত ৯ মাস ধরে তিনি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিবেদিতভাবে কাজ করছেন। তবে এরমধ্যে গত ছয় মাস ধরে তাকে ও তার পরিবারকে ‘জঘন্য অপমান, অপবাদ এবং হুমকি’ সহ্য করতে হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন। তিনি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের সংলাপের প্রবক্তা এবং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অন্যতম প্রধান আলোচক ছিলেন। খবর আল জাজিরা।
সোমবার (৩ মার্চ) ভোরে এক অনলাইন পোস্টে জারিফ তার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, এটি ছিল তার ৪০ বছরের কর্মজীবনের ‘সবচেয়ে তিক্ত সময়’। তিনি বলেন যে, ইরানের বিচারপ্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি ইজেই তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে পড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
পদত্যাগপত্রে জাভেদ জারিফ লিখেছেন, গত ৯ মাস ধরে তিনি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিবেদিতভাবে কাজ করছেন। তবে এরমধ্যে গত ছয় মাস ধরে তাকে ও তার পরিবারকে ‘জঘন্য অপমান, অপবাদ এবং হুমকি’ সহ্য করতে হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলোর চাপের মুখে ছিলেন জারিফ। ইরানে ২০২২ সালের একটি আইনের অধীনে, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা বা প্রথম শ্রেণির আত্মীয়দের মধ্যে কেউ দ্বৈত নাগরিক হলে তাদের জন্য রাজনৈতিক পদে থাকা নিষিদ্ধ। জারিফের দুই সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
ইরানের মধ্যমপন্থী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এখনো এ পদত্যাগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তার দপ্তর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে।
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির আমলে আট বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন জাভেদ জারিফ। তিনি ২০১৫ সালে পশ্চিমাদের সঙ্গে করা ইরানের পরমাণু চুক্তিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন।
জাভেদ জারিফের পদত্যাগের আগেরদিনই ইরানের অর্থমন্ত্রী আবদোলনাসের হেম্মাতিকে বরখাস্ত করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের দরপতনের কারণে সংসদের ২৭৩ জন সদস্যের মধ্যে ১৮২ জন তার বিরুদ্ধে ভোট দেন।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন