প্রতিদিনের খরচের ৫৪৫% মুনাফা সম্ভব: ডিপসিক – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন

প্রতিদিনের খরচের ৫৪৫% মুনাফা সম্ভব: ডিপসিক

  • ০৩/০৩/২০২৫

চীনা এআই স্টার্টআপ ডিপসিক কোম্পানির জনপ্রিয় ভিথ্রি ও আর১ মডেলের আর্থিক তথ্য প্রকাশ করেছে।
চীনা এআই স্টার্টআপ ডিপসিক কোম্পানির জনপ্রিয় ভিথ্রি ও আর১ মডেলের আর্থিক তথ্য প্রকাশ করেছে। কোম্পানিটি শনিবার দাবি করেছে, প্রতিদিন খরচ করা প্রতিটি ডলারের জন্য ৫৪৫ শতাংশ মুনাফা করতে পারে ডিপসিক। অর্থাৎ তারা প্রতিদিন যে পরিমাণ খরচ করবে, তার ৫ দশমিক ৪৫ গুণ মুনাফা করা সম্ভব। তবে ডিপসিক সতর্ক করেছে যে প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে।
এই প্রথম চীনের হাংঝুভিত্তিক কোম্পানিটি ‘ইনফেরেন্স’ (এআই মডেল প্রশিক্ষণের পরের ধাপ) কাজ থেকে তাদের মুনাফার তথ্য প্রকাশ করল। এ কাজগুলো কম কম্পিউটেশনাল শক্তি ব্যবহার করে। ইনফেরেন্স এমন এক প্রক্রিয়া, যেখানে প্রশিক্ষিত এআই মডেল আগে শিখে নেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নতুন তথ্যের ওপর সিদ্ধান্ত বা পূর্বাভাস দেয়। সহজ কথায়, এটি হলো মডেলটির প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর সেটি ব্যবহার করে নতুন কাজ বা প্রশ্নের উত্তর দেয়ার প্রক্রিয়া। উদাহরণস্বরূপ, চ্যাটবটের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর দেয়া বা ছবি থেকে বস্তু চেনা।
এর আগে ডিপসিক দাবি করে, কোম্পানিটি মডেল প্রশিক্ষণের জন্য যেসব চিপ ব্যবহার করেছে, সেগুলোয় খরচ হয়েছে ৬০ লাখ ডলারের মতো। যা ওপেনএআইয়ের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের খরচের তুলনায় অনেক কম।
গত জানুয়ারিতে উন্মোচনের পর পরই প্রযুক্তিজগতে আলোড়ন তোলে চীনা ডিপসিকের এআই মডেল আর১। কীভাবে রাতারাতি একটি প্রতিষ্ঠান স্বল্প সময়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে, সে বিষয় প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা এখনো চলমান।
তারা বলছেন, ডিপসিকের উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ প্রশিক্ষণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের মূল কারণ। তারা তুলনামূলক কম শক্তি ব্যবহার করে শক্তিশালী এআই মডেল তৈরি করেছে, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। অনেক চ্যাটবট ব্যহারকারীর মতে এটি ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি থেকেও যথাযথ ও নিখুঁত উত্তর দিতে সক্ষম। এ কারণেই ডিপসিকের তৈরি চ্যাটবট অ্যাপ জনপ্রিয় হয়ে অ্যাপল অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লে স্টোরের শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। এ সাফল্য বিশ্বের এআই প্রতিযোগিতায় নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
কোম্পানিটির দাবি, মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ডিপসিক নিজস্ব ডাটা সেন্টার তৈরি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিষেধাজ্ঞার কারণে জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে ডিপসিককে এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য কম শক্তিশালী এনভিডিয়া এইচ৮০০ চিপ ব্যবহার করতে হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো আরো শক্তিশালী এইচ১০০ চিপ ব্যবহার করতে পারে।
তবে এরই মধ্যে নানা অভিযোগ ও নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছে কোম্পানিটি। প্লাটফর্মকে অগ্রহণযোগ্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে অস্ট্রেলিয়া, ইতালি ও তাইওয়ান এ পরিষেবা নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এটি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। কেউ পরিষেবাটি ব্যবহার করলে জরিমানা ও কারাদণ্ড হতে পারে বলে সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে জানানো হয়। এদিকে অ্যাপটির বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত’ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ আনে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস)।
সংস্থাটির দাবি, অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের দেয়া সব তথ্য প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করে। এছাড়া জাতীয় বিষয় নিয়ে অ্যাপটির উত্তরের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খবরঃরয়টার্স।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us