স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, তিনি রাশিয়ার ‘নতুন অঞ্চলে’ [যুদ্ধ শুরুর পর পূর্ব ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল দখল করেছে] খননসহ নানা যৌথ প্রকল্পে আমেরিকান অংশীদারদের সম্পদ ‘দিতে’ প্রস্তুত।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে রুশ অধিকৃত ইউক্রেনসহ বিরল খনিজ পদার্থ কেনার সুযোগ দিতে প্রস্তুত তিনি। খবর বিবিসির
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থনের বিনিময়ে ইউক্রেনকে তার কিছু খনিজ সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়ার জন্য বারবার চাপ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের এক মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি বর্তমানে চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’
স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, তিনি রাশিয়ার ‘নতুন অঞ্চলে’ [যুদ্ধ শুরুর পর পূর্ব ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল দখল করেছে] খননসহ নানা যৌথ প্রকল্পে আমেরিকান অংশীদারদের সম্পদ ‘দিতে’ প্রস্তুত। তিনি বলেন, এই প্রস্তাবে দুই দেশ অ্যালুমিনিয়াম উত্তোলন এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করতেও সহযোগিতা করতে পারে।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে পুতিন ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ সরবরাহে ট্রাম্পের চাপের প্রতি সাড়া দিয়ে জানান, তারা খনিজ সম্পদ খনন করা বিভিন্ন কোম্পানি ও ‘বিদেশি অংশীদারদের’ সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
পুতিন বলেন, বিরল খনিজ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেনের সম্ভাব্য চুক্তি কোনো উদ্বেগের বিষয় নয়। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, নিঃসন্দেহে ইউক্রেনের তুলনায় এ ধরনের সম্পদ রাশিয়ার অনেক বেশি আছে।’
তিনি বলেন, ‘নতুন অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রেও আমাদের সিদ্ধান্ত একই। আমরা তথাকথিত নতুন, ফের রাশিয়ান ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া আমাদের ঐতিহাসিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি অংশীদারদের আকৃষ্ট করতে প্রস্তুত।
তিনি আরও পরামর্শ দিয়েছেন, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে সাইবেরিয়ার ক্রাসনোয়ারস্কে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে সহযোগিতা করতে পারে। রাশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর পুতিন টেলিভিশনে এসব মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রস্তাব ‘একটি বিস্তৃত সম্ভাবনার’ দ্বার উন্মোচন করেছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরল খনিজ পদার্থের প্রয়োজন এবং রাশিয়ার কাছে ‘প্রচুর পরিমাণে এই খনিজ আছে’।
পুতিন এমন সময় এই প্রস্তাব দিয়েছেন, যখন নিজেদের খনিজ সম্পদের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে চুক্তি সইয়ের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হচ্ছে ইউক্রেন। কিয়েভের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের প্রায় ৫ শতাংশ ইউক্রেনে রয়েছে। তবে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর তিন বছরে কিছু খনিজ সম্পদ দখল করেছে রাশিয়া। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইউক্রেনকে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার (৩৯৬ বিলিয়ন পাউন্ড) এবং তিনি চান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন থেকে সমপরিমাণ মূল্যের খনিজ সম্পদ নিতে পারবে।
তবে জেলেনস্কি মার্কিন সহায়তার অঙ্ক নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন এবং কোনো চুক্তি করার ক্ষেত্রে সুরক্ষা গ্যারান্টি চান বলেও জানা গেছে। সোমবার ইউক্রেনের ইউরোপীয় ও ইউরো-আটলান্টিক ইন্টিগ্রেশন বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলগা স্টেফানিশিনা বলেন, এ ধরনের চুক্তি নিয়ে ‘খুবই গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে, প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত হয়ে গেছে’।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) ইউক্রেনের সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের থেকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে, একটি চুক্তি করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার পাবে ইইউ। ইউরোপীয় শিল্প কৌশল কমিশনার স্টিফেন সেজর্ন এই বিষয়টিকে ‘উইন-উইন’ বলে অভিহিত করেছেন।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন