এশিয়ার এলএনজি আমদানি দুই বছরের সর্বনিম্নে নামার পূর্বাভাস – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন

এশিয়ার এলএনজি আমদানি দুই বছরের সর্বনিম্নে নামার পূর্বাভাস

  • ২৬/০২/২০২৫

এশিয়ার স্পট মার্কেটে সম্প্রতি এলএনজির দাম গত বছরের তুলনায় অন্তত ৫০ শতাংশ বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বাড়তি দামের কারণে জ্বালানি পণ্যটি আমদানি কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া উত্তর এশিয়ার বেশির ভাগ অঞ্চলে তাপমাত্রা আগের তুলনায় বেড়েছে। এসব কারণে এশিয়ায় চলতি মাসে মোট এলএনজি আমদানি কমে গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে যেতে পারে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়া ডাটা বিশ্লেষণ করে গত সোমবার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বিশ্বে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি এলএনজি আমদানি করে। কমোডিটি অ্যানালিস্ট কেপলারের সংকলিত ডাটা অনুযায়ী, এ দেশগুলো ফেব্রুয়ারিতে দুই কোটি সাত লাখ টন এলএনজি আমদানির করতে পারে, যা ২০২৩ সালের এপ্রিলের পর থেকে সবচেয়ে কম। এছাড়া চলতি মাসে এশিয়ার এলএনজি আমদানির পরিমাণ জানুয়ারির ২ কোটি ৪৫ লাখ ৯০ হাজার টন ও গত বছরের ফেব্রুয়ারির ২ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার টনের তুলনায় কম।
অন্যদিকে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে এলএনজি আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে ইউরোপ। ফেব্রুয়ারিতে অঞ্চলটির আমদানি বেড়ে রেকড দ্বিতীয় সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে।
কেপলার জানায়, ইউরোপের দেশগুলোয় ফেব্রুয়ারিতে এলএনজি আমদানির পরিমাণ ১ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার টনে পৌঁছার পূর্বাভাস রয়েছে, জানুয়ারিতে যা ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার টন। ইউরোপের দেশগুলোর ফেব্রুয়ারির এলএনজি আমদানি দৈনিক ভিত্তিতে হিসাব করা হলে তা ২০২৩ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চে পৌঁছবে। এছাড়া ইউরোপের এ বাড়তি আমদানির প্রয়োজন মেটাতে ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে এলএনজি সরবরাহে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপে এলএনজি আমদানির পরিমাণ ৬৫ লাখ ৩০ হাজার টন হতে পারে, যা জানুয়ারির ৬৮ লাখ ৪০ হাজার টনের তুলনায় কম।
এদিকে ইউরোপের বাড়তি চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে এলএনজির দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। গত শুক্রবার ইউরোপীয় বেঞ্চমার্ক টিটিএফে প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টায় এলএনজির দাম ৪৬ দশমিক ৬ ইউরোয় পৌঁছেছে। এটি প্রতি এমএমবিটিইউয়ে ১৪ ডলার ১২ সেন্টের সমান। বাড়তি দামের কারণে ফেব্রুয়ারিতে শীর্ষ ক্রেতা চীনের আমদানি রেকর্ড সর্বনিম্নে নামতে পারে। কেপলার জানায়, ফেব্রুয়ারিতে দেশটির আমদানির পরিমাণ হতে পারে ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টন, জানুয়ারিতে যা ছিল ৬০ লাখ ৫০ হাজার টন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি আমদানিকারক দেশ জাপান। দেশটির চলতি মাসে জ্বালানি পণ্যটির আমদানির পরিমাণ হতে পারে ৫৭ লাখ ৯০ হাজার টন, জানুয়ারিতে যা ছিল ৬৭ লাখ ৪০ হাজার টন।
সূত্র: রয়টার্স।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us