ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তি করতে রাজি – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন

ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তি করতে রাজি

  • ২৬/০২/২০২৫

ইউক্রেনে লিথিয়াম, টাইটানিয়ামসহ বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ রয়েছে, যার মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার। গত বছর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি প্রস্তাব দেন, যুদ্ধ শেষে বিদেশি কোম্পানিগুলো এসব সম্পদে প্রবেশাধিকার পেতে পারে।
ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ চুক্তির শর্তে রাজি হয়েছে বলে কিয়েভের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। খবর বিবিসি’র।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সত্যিই কিছু ভালো সংশোধনীসহ এটি নিয়ে একমত হয়েছি এবং এটিকে ইতিবাচক ফলাফল হিসেবে দেখছি।’ তবে, তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাব্য আয় থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার প্রাথমিক দাবি থেকে সরে এসেছে। তবে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের জন্য কোনো দৃঢ় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেয়নি, যা ছিল কিয়েভের অন্যতম প্রধান দাবি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই নেতা পরস্পরকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য বিনিময় করার পর, তিনি আশা করছেন যে এই সপ্তাহেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে এসে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত না করে মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, চুক্তির বিনিময়ে ইউক্রেন ‘লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অধিকার’ পাবে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা খুবই সাহসী।’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, তার অর্থ ও সামরিক সরঞ্জাম ছাড়া এই যুদ্ধ খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যেত।’
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের সরবরাহ ইউক্রেনে অব্যাহত থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের একটি চুক্তি করতে হবে। না হলে এটা চলতেই থাকবে।’
যেকোনো শান্তিচুক্তির পর ইউক্রেনে ‘কোনো না কোনো ধরনের শান্তিরক্ষার’ প্রয়োজন হবে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, সেটি ‘সবার জন্য গ্রহণযোগ্য’ হতে হবে। মাত্র গত সপ্তাহেই ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরাচার’ বলে আখ্যা দেন এবং যুদ্ধ শুরুর জন্য রাশিয়ার বদলে ইউক্রেনকেই দায়ী করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদের দাবি প্রত্যাখ্যানের পর, জেলেনস্কি মন্তব্য করেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার তৈরি ‘ভুল তথ্যের জগতে’ বাস করছেন।
মস্কো তিন বছর আগে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনে আগের সামরিক ও অন্যান্য সহায়তার বিনিময়ে দেশটির খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকারের জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। জেলেনস্কি যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্র এত বেশি পরিমাণ সাহায্য কখনোই প্রদান করেনি। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের রাষ্ট্র বিক্রি করতে পারি না।’ মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ৩০০ থেকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সেই অর্থ ফেরত পেতে চাই। আমরা দেশটিকে একটি খুব বড় সমস্যার মধ্যে সহায়তা করছি তবে এখন আমেরিকান করদাতারা তাদের অর্থ ফেরত পাবেন, তাও লাভসহ।’
ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলহা স্টেফানিশিনা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, এই চুক্তি ‘কেবল শুরুর একটি অংশ’। আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া স্টেফানিশিনা বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছ থেকে বহুবার শুনেছি যে এটা বড় পরিকল্পনার একটা অংশ।’
ইউক্রেনীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকে দেওয়া কিছু কঠোর দাবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরে আসতে হয়েছে এবং এই চুক্তির অনেক বিষয় নিয়ে এখনো আরও আলোচনার প্রয়োজন হবে।
ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম ইউক্রেইনস্কা প্রাভদা জানিয়েছে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও খনিজ সম্পদ চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন। দুই দেশ একটি পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিল গঠনে সম্মত হয়েছে।
ইউক্রেনে লিথিয়াম, টাইটানিয়ামসহ বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ রয়েছে, যার মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার। গত বছর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি প্রস্তাব দেন, যুদ্ধ শেষে বিদেশি কোম্পানিগুলো এসব সম্পদে প্রবেশাধিকার পেতে পারে।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইউক্রেনের রুশ-অধিভুক্ত অঞ্চলের খনিজে যুক্তরাষ্ট্রকে সুযোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন ও ইউরোপের মিত্ররা উদ্বিগ্ন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার আলোচনায় তারা বাদ পড়তে পারে এবং ইউরোপের নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ তাদের অগোচরে নির্ধারিত হতে পারে।
ইউক্রেনে যেসব খনিজ সম্পদ রয়েছে
ইউক্রেনে বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ ‘আবশ্যক কাঁচামাল’-এর মজুদ রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত– ১৯ মিলিয়ন টন গ্রাফাইটের (প্রমাণিত) মজুদ, যা বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়; ইউরোপের সমস্ত লিথিয়ামের এক তৃতীয়াংশ, যা বর্তমানের ব্যাটারির মূল উপাদান। রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের আগে ইউক্রেন বিশ্বব্যাপী ৭ শতাংশ টাইটানিয়াম উৎপাদন করত, যা নির্মাণ খাত, বিমান, এবং পাওয়ার স্টেশনগুলোতে ব্যবহৃত হয়।
ইউক্রেনের ভূখণ্ডে বিরল মৃত্তিকা ধাতুরও উল্লেখযোগ্য মজুদ রয়েছে, যা অস্ত্র, উইন্ড টারবাইন, ইলেকট্রনিক্স এবং আধুনিক বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কিছু খনিজ সম্পদ রাশিয়া দখল করেছে। ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিডেঙ্কোর মতে, রুশ-অধিভুক্ত এলাকাগুলোতে বর্তমানে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের সম্পদ রয়ে গেছে।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us