২০৩৪ সাল মেমোরি চিপ বাজারের আকার পৌঁছবে ৩৯ হাজার কোটি ডলারে – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০৬ অপরাহ্ন

২০৩৪ সাল মেমোরি চিপ বাজারের আকার পৌঁছবে ৩৯ হাজার কোটি ডলারে

  • ২৫/০২/২০২৫

বৈশ্বিক মেমোরি চিপ বাজার শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে। গত বছর এর বাজারমূল্য ছিল ১২ হাজার ৫১০ কোটি ডলার।

বৈশ্বিক মেমোরি চিপ বাজার শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে। গত বছর এর বাজারমূল্য ছিল ১২ হাজার ৫১০ কোটি ডলার। বার্ষিক ১২ দশমিক ১ শতাংশ যৌগিক প্রবৃদ্ধি হার (সিএজিআর) ধরে ২০৩৪ সালের মধ্যে এর আকার ৩৯ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। সম্প্রতি মার্কেটডটইউএসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং, এআই ও ডাটা স্টোরেজ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদাই মেমোরি চিপ বাজারের প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি। ক্লাউড কম্পিউটিং, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও অটোমেশন ব্যবস্থার প্রসারের সঙ্গে দ্রুতগতির ও আরো কার্যকর মেমোরি চিপের চাহিদা বাড়ছে। ভোক্তা ইলেকট্রনিকস খাত, বিশেষ করে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের বাজার এতে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি অটোমোটিভ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতেও উন্নত মেমোরি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাপ্লাই চেইন সংকট ও কাঁচামালের ব্যয় ওঠানামা এ বাজারের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে প্রধান কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) ও উন্নত চিপ তৈরির প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। একই সঙ্গে বাজারে জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও উচ্চ ধারণক্ষমতার মেমোরি চিপের চাহিদা বাড়ছে। কোম্পানিগুলো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালে ডাইনামিক র‍্যানডম অ্যাকসেস মেমোরি (ডির‍্যাম) বাজারে আধিপত্য দেখিয়েছে। এ সময় ডির‍্যাম খাত বৈশ্বিক মেমোরি চিপ বাজারের ৫১ দশমিক ২ শতাংশ হিস্যা দখলে রেখেছিল।

ভোক্তা ইলেকট্রনিকস খাতের প্রবৃদ্ধিও অব্যাহত রয়েছে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও গেমিং ডিভাইসের জন্য উচ্চক্ষমতার মেমোরি চিপের চাহিদা বাড়ায় ২০২৪ সালে বাজারে এ খাতের হিস্যা ৩২ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের আয় গত বছর ৪৭ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এক্ষেত্রে ডির‍্যাম ও ন্যান্ড মেমোরি চিপ একত্রে ২৫ শতাংশ অবদান রেখেছে।

সেমিকন্ডাক্টর উদ্ভাবনে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানিগুলো বিশ্বব্যাপী চিপ ডিজাইন রাজস্বের ৪৬ শতাংশ, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সরঞ্জামের ৪২ শতাংশ এবং ডিজাইন সফটওয়্যার ও লাইসেন্সিংয়ের ৭২ শতাংশ দখল করেছিল।

সেন্ট্রাল ইস্টার্ন কার্গো ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড (সিইসিটিএল) অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মোট সেমিকন্ডাক্টর বিক্রির ২৮ শতাংশ হিস্যা মেমোরি চিপের। বর্তমানে এর বাজারমূল্য ১৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) ২০২২ সালে বিশ্বে উন্নতমানের চিপের ৮৫ শতাংশের বেশি উৎপাদন করেছে। এক্ষেত্রে বৈশ্বিক বাজারে শীর্ষস্থান দখলে রেখেছে কোম্পানিটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মেমোরি চিপ বাজার দ্রুত বর্ধনশীল ও উদ্ভাবনমুখী একটি খাত। মূলত মোবাইল ডিভাইস, ডাটা সেন্টার ও অটোমোটিভ শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে এ খাত বিকাশ হচ্ছে। পাশাপাশি আইওটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার হচ্ছে। এসব প্রযুক্তি কার্যকরভাবে কাজ করতে বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপ প্রয়োজন। এসব কারণে এর চাহিদা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ খাতে বিনিয়োগেরও ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ এআই অ্যাপ্লিকেশনের জন্য উন্নত মেমোরি তৈরি, আইওটি ইকোসিস্টেমের মতো উদীয়মান প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী দিনে থ্রিডি ন্যান্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে মেমোরি চিপের আকার না বাড়িয়ে সক্ষমতা বাড়ানোর মতো উদ্ভাবন এ খাতের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

তবে এ বাজারে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। সেমিকন্ডাক্টরের দামের ওঠানামা, সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন এর উৎপাদন ও বিপণনকে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিও এ বাজারের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধিতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us