মাস্ক এরপর আবারো বরখাস্তের হুমকি দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্টের বিবেচনার ভিত্তিতে, তাদের আরেকটি সুযোগ দেয়া হবে। দ্বিতীয়বারও সাড়া দিতে ব্যর্থ হলে, তারা চাকরি হারাবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি অপচয় দূর করার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইলন মাস্ক সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আবারো সেই ফেডারেল কর্মচারীদের বরখাস্ত করার হুমকি দিয়েছেন, যারা তার নির্দেশ অনুযায়ী তাদের কাজের যৌক্তিকতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আগেই জানিয়ে দিয়েছিল যে, কর্মচারীরা এই বিষয়ে সাড়া দিতে বাধ্য নয়। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্মচারীদের তদারকি করা সংস্থা সোমবার জানিয়েছে, তারা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মাস্কের পাঠানো ই-মেইল উপেক্ষা করতে পারে। মাস্কের এই নির্দেশনা পুরো ফেডারেল সরকার জুড়েই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। সে সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে যে, প্রশাসনের মধ্যে আসলে মাস্কের কতটুকু ক্ষমতা আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের কিছু সংস্থা মাস্কের ই-মেইলের জবাব তাৎক্ষণিকভাবে না দিতে কর্মীদের পরামর্শ দিয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) ও পররাষ্ট্র দপ্তরের ট্রাম্প-নিযুক্ত কর্মকর্তারা নিজেদের কর্মীদের এ বিষয়ে ই-মেইল পাঠিয়েছেন। তারা তাদের কর্মীদের ‘চেইন অব কমান্ড’-এর বাইরের কারো ই-মেইলে সাড়া না দিতে বলেছেন।
এদিকে, সোমবার নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ (সরকারি দক্ষতা বিভাগ) এর প্রধান ধনকুবের ইলন মাস্ক স্বীকার করেন যে, তার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে মাস্ক বলেন, ই-মেইলের অনুরোধটি একেবারেই তুচ্ছ ছিল। কারণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মানদণ্ড ছিল শুধু কিছু শব্দ টাইপ করে পাঠানো। তবুও অনেকেই সেই সামান্য পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তাদের ব্যবস্থাপকরা তাদের এই কাজে বাধা দিয়েছে।
মাস্ক এরপর আবারো বরখাস্তের হুমকি দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্টের বিবেচনার ভিত্তিতে, তাদের আরেকটি সুযোগ দেয়া হবে। দ্বিতীয়বারও সাড়া দিতে ব্যর্থ হলে, তারা চাকরি হারাবে। হোয়াইট হাউস মাস্কের মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট সোমবার ফেডারেল সংস্থাগুলোর মানব সম্পদ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন যে, কর্মচারীরা মাস্কের ই-মেইলের উত্তর না দিলেও তাদের বরখাস্ত করা যাবে না এবং তারা এতে সাড়া দিতে বাধ্যও নয়। এ খবর মাস্ক জানেন কিনা তা স্পষ্ট নয়।
সেখানে বলা হয়েছিল, ই-মেইলের উত্তর দেয়া বাধ্যতামূলক নয়, বরং ঐচ্ছিক। এছাড়া, কর্মচারীদের গোপনীয় বা সংবেদনশীল তথ্য তাদের উত্তরে প্রকাশ না করার জন্য সতর্কও করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানব সেবা বিভাগ (এইচএইচএস) কর্মচারীদের জানায়, যদি তারা উত্তর দেয়ার সিদ্ধান্তই নেয়, তবে তাদের উত্তরগুলো যেন সাধারণ হয় এবং তারা যেন নির্দিষ্ট ওষুধ বা চুক্তির তথ্য উল্লেখ না করে। ই-মেইলটি পর্যালোচনা করেছে রয়টার্স। সেখানে বলা হয়েছিল— ধরে নিন, আপনি যা লিখবেন তা শত্রুভাবাপন্ন বিদেশী সংস্থাগুলোর হাতে পড়বে। সে অনুযায়ী আপনার উত্তর তৈরি করুন। তবে কিছু সংস্থা তাদের কর্মচারীদের মাস্কের আহ্বানে সাড়া দেয়ার জন্যও উৎসাহিত করেছে। এসব বৈপরিত্য রিপাবলিকান প্রশাসনের সদস্যদের সঙ্গে মাস্কের সম্ভাব্য উত্তেজনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন