অধিকাংশ ইউএসএআইডি কর্মীকে ছুটিতে পাঠিয়েছে কিংবা ছাঁটাই করেছে ট্রাম্প প্রশাসন – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

অধিকাংশ ইউএসএআইডি কর্মীকে ছুটিতে পাঠিয়েছে কিংবা ছাঁটাই করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

  • ২৪/০২/২০২৫

ফেডারেল কর্মীসংখ্যা ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইলন মাস্ক।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি)-এর অধিকাংশ কর্মীকে রোববার রাত ১২টা থেকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়া, আরও শত শত কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। খবর বিবিসি’র।

প্রায় ৪ হাজার ২০০ জন কর্মীকে ছুটিতে পাঠানোর পাশাপাশি অন্তত ১ হাজার ৬০০ জন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাজারো ইউএসএআইডি কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রাথমিক প্রচেষ্টা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে আটকে যাওয়ার মাঝেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

একজন ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্য সংস্থাটি সংকুচিত করার প্রশাসনিক পরিকল্পনা স্থগিত করেন। তবে শুক্রবার রায়ে বলা হয়, এই স্থগিতাদেশ স্থায়ী হবে না। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএসএআইডি-এ সম্প্রতি ব্যয় সংকোচনের আগে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কর্মরত ছিল।

রোববার প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইউএসএআইডি কর্মীদের দেওয়া এক নোটিশে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বা নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ‘নির্ধারিত কর্মীরা’ প্রশাসনিক ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন। সংস্থাটির কতজন কর্মীর চাকরি বহাল থাকবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে, ইউএসএআইডি আগেই ৬১১ জন কর্মীকে জরুরি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

ইমেইলে আরও বলা হয়, ইউএসএআইডি বিদেশে কর্মরত কর্মীদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার খরচ বহন করার পরিকল্পনা করেছে। সিবিএস জানিয়েছে, প্রায় ৪ হাজার ২০০ জন ইউএসএআইডি কর্মীকে ছুটিতে পাঠানো হবে। ইউএসএআইডি-এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সংস্থাটির আরও ১ হাজার ৬০০ জন কর্মীকে ‘জনবল সংকোচন’-এর আওতায় ছাঁটাই করা হবে। এর ফলে প্রশাসনিক ছুটিতে থাকা বা বরখাস্ত হওয়া কর্মীর সংখ্যা হবে অন্তত ৫ হাজার ৮০০ জন, যা সংস্থাটির মোট কর্মীর অর্ধেকেরও বেশি।

ওয়াশিংটন ডিসির বিচারক কার্ল নিকোলসের শুক্রবারের রায়ের পর এ সিদ্ধান্ত এসেছে। রায়ে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ইউএসএআইডি কর্মীদের ছাঁটাই করার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেন। গত সপ্তাহে আরেকজন ফেডারেল বিচারক বলেন, আইনি চ্যালেঞ্জগুলো চলমান থাকা অবস্থায় কংগ্রেস অনুমোদিত বৈদেশিক সহায়তার অর্থায়ন অব্যাহত রাখার বিষয়ে আদালতের রায় মানতে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে।

ছুটিতে পাঠানো ইউএসএআইডি কর্মীদের পরবর্তীতে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে কি না, নাকি তাদের পদও বাতিল করা হবে— তা এখনো অনিশ্চিত। ফেডারেল কর্মীসংখ্যা ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইলন মাস্ক। গত সপ্তাহের শেষে মাস্ক উপদেষ্টা লক্ষাধিক সরকারি কর্মকর্তাকে তাদের গত সপ্তাহের কাজের সাফল্যের তালিকা জমা দিতে বলেন।

শনিবার ওয়াশিংটন ডিসির কাছে এক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বামপন্থী প্রতারণা ইউএসএআইডি কার্যকরভাবে বন্ধ করেছি।’ তিনি জানান, সংস্থাটির নাম আগের ভবন থেকে সরিয়ে সেখানে এখন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প‌্যাট্রল (সিবিপি)-এর এজেন্টরা অবস্থান নেবেন।

সিবিপি ইতোমধ্যে ইউএসএআইডি ভবনে ৩ লাখ ৯০ হাজার বর্গফুট জায়গা নেওয়ার জন্য একটি লাইসেন্স চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প ও ইলন মাস্ক বরাবরই সমালোচনামুখর ছিলেন। ইউএসএআইডি তাদের হতাশার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। সংস্থাটিকে তারা অতিরিক্ত উদার ও অপচয়ী বলে অভিযুক্ত করেছেন।

ইউএসএআইডি-এর এই সংকোচনের ফলে বৈশ্বিক সহায়তা ব্যবস্থা ইতোমধ্যে বিপর্যস্ত হয়েছে। জানুয়ারিতে ট্রাম্প তার পরিকল্পনা ঘোষণার পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শত শত কর্মসূচি স্থগিত হয়েছে। সাবেক ইউএসএআইডি প্রধান গেইল স্মিথ বলেছেন, ‘এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে, মানুষের জীবন-মরণ নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই এবং আমরা আর বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার নই।’

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us