ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ২১ মিলিয়ন ডলার, ট্রাম্পের যে দাবিতে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ২১ মিলিয়ন ডলার, ট্রাম্পের যে দাবিতে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি

  • ২২/০২/২০২৫

ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই অর্থ প্রদানকে ‘বহিরাগত হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে এবং বিরোধী দল কংগ্রেসকে এই হস্তক্ষেপের জন্য অভিযুক্ত করেছে। ভারতের নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ২১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন, তা ভারতের রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। খবর বিবিসির

ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই অর্থ প্রদানকে ‘বহিরাগত হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে এবং বিরোধী দল কংগ্রেসকে এই হস্তক্ষেপের জন্য অভিযুক্ত করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য তাদের এমন দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ হাজির করেনি। আজ শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এসব দাবিকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে মনে করছে।

ট্রাম্প মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি একটি নতুন বিভাগ গঠন করেন। এ বিভাগের নাম ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (ডোজ)। এটি পরিচালনা করবেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলন মাস্ক। এর লক্ষ্য হলো সরকারি ব্যয় এবং চাকরিতে কর্মীসংখ্যা কমানো। মাস্ক বলেছেন, ডোজের উদ্দেশ্য হলো করদাতাদের টাকা বাঁচানো এবং জাতীয় ঋণ কমানো।

এ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে ইউএসএআইডির সব ধরনের প্রকল্প বাতিল করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে ৪৮৬ মিলিয়ন ডলারের নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ কনসোর্টিয়াম। এর মধ্যে ভারতে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ২১ মিলিয়ন ডলার এবং মলদোভায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রকল্পে ২২ মিলিয়ন ডলারের প্রোগ্রাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারতের ‘প্রচুর অর্থ’ রয়েছে এবং তারা বিশ্বের সর্বোচ্চ করদাতা দেশগুলোর মধ্যে একটি। পরে গত বৃহস্পতিবার তিনি ‘ভারতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য’ ২১ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সম্প্রতি প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সফরের এক সপ্তাহ পর ট্রাম্প এমন প্রশ্ন তুললেন।

মায়ামিতে এক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার ধারণা তারা নতুন কাউকে নির্বাচিত করার চেষ্টা করছিলেন। আমাদের ভারত সরকারকে এটি বলতে হবে।’

একইদিনে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের একটি ক্লিপ শেয়ার করেন।

ক্লিপটিতে গান্ধীকে বলতে শোনা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো বড় গণতান্ত্রিক দেশগুলো বুঝতে পারছে না যে [ভারতের] গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি বড় অংশ ভেঙে পড়েছে।

মালব্য এক এক্স পোস্টে অভিযোগ করেন, ‘রাহুল গান্ধী লন্ডনে ছিলেন, আমেরিকা থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিদেশি শক্তিগুলোকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন।’

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এ দাবি অস্বীকার করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তার আমলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইউএসএআইডি বহু বছর ধরে যেসব সহায়তা দিয়েছে, তার প্রতিবেদন তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us