ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সংঘাত নিরসনের শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে, তবে এ নিয়ে আলোচনার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে মস্কো।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিআর) জানিয়েছে, ইউক্রেন সংঘাতের কারণে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা হচ্ছে না। যদিও ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সংঘাত নিরসনের শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে, তবে এ নিয়ে আলোচনার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে মস্কো।
বৃহস্পতিবার একাতেরিনবার্গে ‘সাইবার সিকিউরিটি ইন ফাইন্যান্স’ ফোরামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাবিউলিনা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার ফলে দেশটির প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে দেওয়া হয়।
জি-৭ গোষ্ঠী ইতোমধ্যে এসব স্থগিত সম্পদের আয় থেকে ইউক্রেনের জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে। কিয়েভ তার পশ্চিমা মিত্রদের আহ্বান জানিয়ে আসছে, এই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তাদের সামরিক খাত ও পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহার করা হোক। রাশিয়া এই উদ্যোগকে ‘চুরির শামিল’ বলে অভিহিত করেছে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
মঙ্গলবার সৌদি আরবে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইউক্রেন সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান পেতে হলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে হবে। তিনি বলেন, ‘কোনো সংঘাতের অবসান ঘটাতে হলে সব পক্ষকে কিছু না কিছু ছাড় দিতে হয়।’
রুবিও আরও বলেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা পুনরায় গড়ে তুলতে আগ্রহী। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিন বছর পর রুশ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে এই প্রথম সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ব্রাসেলসকে না জানিয়ে এবং ইইউ-কে আলোচনার বাইরে রেখে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর সঙ্গে সংলাপে বসেছে বলে অভিযোগ তুলেছে সদস্য রাষ্ট্রগুলো।
এ পরিস্থিতিতে বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্রুততার সঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের ১৬তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে জানান, ‘ক্রেমলিনের ওপর চাপ বজায় রাখতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’ ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিরা নতুন নিষেধাজ্ঞার খসড়া চূড়ান্ত করেছে, যা সোমবার ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করবেন।
ক্রেমলিন বরাবরই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলে অভিহিত করে আসছে এবং বলছে, এসব নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করতে কিংবা বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থায় দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন