চার বছরে শর্ট ভিডিওর বাজার ৩৫০ কোটি ডলার ছাড়াবে – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন

চার বছরে শর্ট ভিডিওর বাজার ৩৫০ কোটি ডলার ছাড়াবে

  • ২০/০২/২০২৫

ছোট দৈর্ঘ্যের ভিডিও তৈরি, শেয়ার ও দেখা আরো সহজ করে দিয়েছে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম রিলস ও ইউটিউব শর্টসের মতো প্লাটফর্ম।
ছোট দৈর্ঘ্যের ভিডিও তৈরি, শেয়ার ও দেখা আরো সহজ করে দিয়েছে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম রিলস ও ইউটিউব শর্টসের মতো প্লাটফর্ম। ফলে এ ধরনের ভিডিওর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। শর্ট ভিডিও প্লাটফর্মের বাজার সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। ২০২৪ সালে বাজারমূল্য ছিল ১৯৭ কোটি ডলার, যা চলতি বছর ২২২ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য বিজনেস রিসার্চের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংস্থাটি বলছে, ২০২৯ সালের মধ্যে বাজারটি ৩৫৫ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ সময় বাজারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। শর্ট ভিডিও বাজারের দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে প্রথমেই আছে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপক ব্যবহার। এরপর রয়েছে স্মার্টফোন ব্যবহার বৃদ্ধি, ভিডিও কনটেন্টের প্রতি মানুষের আগ্রহ, ফোরজি ও ফাইভজি নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়া। এছাড়া আকর্ষণীয় ও উচ্চমানের কনটেন্টের চাহিদা সম্প্রতি বাজারের প্রবৃদ্ধি আরো বাড়িয়ে তুলছে।
শর্ট ভিডিও প্লাটফর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বিজনেস রিসার্চ কোম্পানি। আগামী চার বছরে ফাইভজি নেটওয়ার্কের প্রসার, এআইভিত্তিক কনটেন্ট, ব্র্যান্ড ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের (ইনফ্লুয়েন্সার) সঙ্গে অংশীদারত্ব, শিক্ষামূলক ছোট ভিডিওর জনপ্রিয়তা, এআর/ভিআর প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আয়ের নতুন কৌশল উদ্ভাবন বাড়বে, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শর্ট ভিডিওর বাজারকেও প্রভাবিত করবে।
বাজারের প্রবৃদ্ধিতে ইন্টারনেটের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহারের অভূতপূর্ব বৃদ্ধি শর্ট ভিডিও প্লাটফর্মের সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। স্মার্টফোনের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা, সাশ্রয়ী মূল্যের ডাটা প্ল্যান এবং নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর অগ্রগতি ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ার মূল কারণ। মূলত শর্ট ভিডিও প্লাটফর্মগুলোর প্রসারকে ত্বরান্বিত করছে দ্রুতগতির ইন্টারনেট। কারণ এটি ভিডিও তৈরি, শেয়ার ও স্ট্রিমিং আগের চেয়ে অনেক সহজ করেছে।
যদিও শর্ট-ফর্ম ভিডিও কনটেন্টের ধারণা একেবারে নতুন নয়। ২০১৩ সালে চালু হওয়া ভাইন প্রথমবারের মতো ছয় সেকেন্ডের লুপিং ভিডিও চালু করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টিকটকের উত্থান এবং ইনস্টাগ্রাম রিলসের মতো ফিচার শর্ট-ফর্ম ভিডিওকে মূলধারার বিনোদনে পরিণত করেছে। যেমন প্লাটফর্মগুলোয় নিয়মিত নতুন ‘ট্রেন্ডস ও চ্যালেঞ্জ’ চালু হয়, যা ব্যবহারকারীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করে। ব্যস্ত জীবনযাপনের মধ্যে মানুষ দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত কনটেন্ট পছন্দ করে। শর্ট ভিডিও সাধারণত ১৫-৬০ সেকেন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, যা দর্শক অল্প সময়েই দেখতে পারে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শর্ট ভিডিও প্লাটফর্ম বাজারে বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে মেটা প্লাটফর্মস, বাইটড্যান্স, টেনসেন্ট হোল্ডিংস, ইউটিউব, স্ন্যাপসহ আরো অনেক। শর্ট-ফর্ম ভিডিও মূলত তরুণদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়। জেনজি ও তরুণ মিলেনিয়ালদের কাছে পৌঁছানোর জন্য এ প্লাটফর্মগুলো বিপণনকারীদের জন্য দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি করেছে।
শর্ট-ফর্ম ভিডিও তৈরি করা ঐতিহ্যবাহী বিজ্ঞাপন বা দীর্ঘ ভিডিওর তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। মাত্র একটি স্মার্টফোন ও সৃজনশীল চিন্তার মাধ্যমে ব্র্যান্ডগুলো এমন আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করতে পারে, যা বড় বাজেটের ক্যাম্পেইনের মতো প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us