বেসামরিক খাতে ব্যবহার বাড়তে থাকায় বাণিজ্যিক ড্রোনের বাজার দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে। বেসামরিক খাতে ব্যবহার বাড়তে থাকায় বাণিজ্যিক ড্রোনের বাজার দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে। চলতি বছর বৈশ্বিক ড্রোনের বাজার ৪ হাজার ১৮ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। যৌগিক বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার (সিএজিআর) ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ ধরে ২০৩০ সালের মধ্যে এ বাজার ৭ হাজার ৭০৩ কোটি ডলারে পৌঁছবে। সম্প্রতি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন বিভিন্ন আকার, ওজন ও ডিজাইনের ড্রোন তৈরি করা হচ্ছে। এসব আকাশযান বিভিন্ন ধরনের সেন্সর পে-লোড বহনে সক্ষম। কৃষি, নির্মাণ, জ্বালানি, বিনোদন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোয় এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, সামরিক ব্যবহারের বাইরে বাণিজ্যিক ড্রোনের চাহিদা বাড়ছে। এর প্রবৃদ্ধির হারও সাধারণ ভোক্তাদের ব্যবহৃত ড্রোনের তুলনায় বেশি হতে পারে। আকার ক্ষুদ্রকরণ, কার্যকর ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা ও উন্নত সেন্সর প্রযুক্তি ড্রোন শিল্পের বিকাশে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। নির্মাতা কোম্পানিগুলো এখন আরো ছোট, হালকা ও অধিক কার্যকর ড্রোন তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছেন। এমনকি মানুষের আঙুলের আকারের কিছু মডেলও বাজারে এসেছে। সৌর প্যানেল, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রোনের উড্ডয়ন সক্ষমতা ও পে-লোড বহনক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি একীভূত হওয়ায় স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন, বাধা এড়িয়ে চলা ও ডাটা বিশ্লেষণের দক্ষতা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাণিজ্যিক ড্রোনের ব্যবহার আরো বাড়বে। এটি ভবিষ্যতে প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হতে পারে। এরিয়াল ফটোগ্রাফি, দ্রুত ডেলিভারি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানচিত্র তৈরি, ভবন পরিদর্শন, ফসলের অবস্থা দেখা, মালামাল পরিবহন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও আবহাওয়া পূর্বাভাসের মতো খাতগুলোয় ড্রোন ব্যবহার হচ্ছে। এসব ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য ড্রোন ব্যবহার বাজার সম্প্রসারণে সাহায্য করছে। ড্রোনের সুবিধা হলো, এটি এমন কাজ করতে পারে, যা মানুষের জন্য কঠিন বা বিপজ্জনক। এ কারণে বিভিন্ন শিল্পে ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৮ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি ড্রোন নিবন্ধন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ বাণিজ্যিক ড্রোন ও ৫৮ শতাংশ বিনোদনের জন্য ব্যবহার হয়। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক ড্রোনের সংখ্যা ৮ লাখ ৫৮ হাজারে উন্নীত হতে পারে। বাণিজ্যিক ড্রোনের নিবন্ধন বাড়ছে, যা বিভিন্ন খাতে চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
মর্ডরের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ড্রোন বাজার দ্রুত বাড়ছে। কারণ নতুন নতুন প্রযুক্তি ও বৈচিত্র্যময় কাজে এটি ব্যবহার হচ্ছে। উত্তর আমেরিকায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ড্রোনের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের মতো বড় কোম্পানিগুলো ড্রোন প্রযুক্তি ও ব্যবহারে বিনিয়োগ করছে। কানাডা ব্যবহারের জন্য নিয়ম সহজ করেছে। ইউরোপে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি ড্রোনের জন্য নিয়ম তৈরি করছে এবং শহরের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি ও কৃষিতে ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন, ভারত ও জাপান ড্রোন ব্যবহার করছে কৃষি, মালামাল পরিবহন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়। কৃষি ও অবকাঠামো পরিদর্শনে লাতিন আমেরিকায় ব্রাজিল ড্রোন ব্যবহার করছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় সৌদি আরবসহ অন্য দেশগুলো নিরাপত্তা এবং শিল্পকাজে ড্রোন ব্যবহার করছে। সব মিলিয়ে নতুন উদ্ভাবন ও অনুকূল নীতির কারণে ড্রোনের বাজার এখন বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন