প্রায় ১০ হাজার সরকারি কর্মচারী বরখাস্ত, ট্রাম্প ও মাস্কের ‘ছাঁটাই অভিযান’ জোরদার – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন

প্রায় ১০ হাজার সরকারি কর্মচারী বরখাস্ত, ট্রাম্প ও মাস্কের ‘ছাঁটাই অভিযান’ জোরদার

  • ১৮/০২/২০২৫

বরখাস্তের পাশাপাশি ট্রাম্প ও মাস্কের উদ্যোগে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়তে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুসারে, এ সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের ২.৩ মিলিয়ন সদস্যবিশিষ্ট বেসামরিক কর্মীবাহিনীর প্রায় ৩ শতাংশ। গত শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি), যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো সংকুচিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টা ইলন মাস্ক আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এর অংশ হিসেবে সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে প্রবীণ সেনাদের সেবা প্রদানসহ বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত ৯ হাজার ৫০০-র বেশি কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই ছাঁটাইয়ের আওতায় স্বরাষ্ট্র, জ্বালানি, প্রবীণদের সেবা, ও এবং স্বাস্থ্য বিভাগসহ একাধিক দপ্তরের কর্মীরা পড়েছেন। মূলত প্রবেশনারি কর্মীদের টার্গেট করা হলেও কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। বরখাস্তের পাশাপাশি ট্রাম্প ও মাস্কের উদ্যোগে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়তে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুসারে, এ সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের ২.৩ মিলিয়ন সদস্যবিশিষ্ট বেসামরিক কর্মীবাহিনীর প্রায় ৩ শতাংশ।

ট্রাম্পের যুক্তি, ফেডারেল সরকার অত্যধিক বড় হওয়ায় এতে বিপুল অর্থ অপচয় হয় এবং জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে দেশটির জাতীয় ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে গত বছরের বাজেট ঘাটতি ছিল ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। সরকার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে উভয় রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য থাকলেও, ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন যে ট্রাম্প ফেডারেল বাজেট নিয়ন্ত্রণের সাংবিধানিক ক্ষমতা লঙ্ঘন করছেন। তবে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা এ পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন দিয়েছে।

এছাড়া ইলন মাস্কের নেতৃত্বে দ্রুত ও ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই ট্রাম্পের কিছু সহকারীকে ক্ষুব্ধ করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসও এই সমন্বয়হীনতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি ট্রাম্প ও মাস্ক বেসামরিক কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রম প্রায় স্থগিত রাখা হয়েছে এবং ইউএসএআইডি ও কনজিউমার ফিনান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো (সিএফপিবি) বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের প্রায় অর্ধেক শিক্ষানবিশ কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন। ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস থেকে ৩ হাজার ৪০০ জন এবং ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস থেকে ১ হাজার ০০০ কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া মার্কিন ইন্টারনাল রেভিনিউজ সার্ভিস (আইআরএস) আগামী সপ্তাহে কয়েক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে। এ ধরনের ব্যয়সংকোচনমূলক পদক্ষেপ জরুরি পরিষেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে উদ্বেগ বাড়ছে। যেমন, লস অ্যাঞ্জেলেসে ভয়াবহ দাবানলের এক মাস পরও ফেডারেল কর্মসূচির আওতায় মৌসুমী অগ্নিনির্বাপক কর্মী নিয়োগ স্থগিত রয়েছে এবং বন থেকে শুকনো কাঠ সরানোর কাজ বন্ধ রয়েছে। ইলন মাস্কের এই কঠোর পদক্ষেপ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হিসেবে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অস্বাভাবিক প্রভাব খাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট শুক্রবার এ উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, মাস্কের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিশিয়েন্সি’ (ডিওজিই) কার্যত একটি নিরীক্ষা পরিচালনা করছে এবং প্রতিটি সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সর্বোত্তম কৌশল খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাজেট বিশেষজ্ঞদের মতে, মাস্কের নেতৃত্বাধীন দল মূলত তরুণ, কম অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের নিয়ে গঠিত এবং তাদের নেওয়া বেশিরভাগ ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত আর্থিক সাশ্রয়ের জন্য নয়, বরং আদর্শগতভাবে প্রভাবিত।  এদিকে, কিছু ছাঁটাই পদক্ষেপ আইনি পদক্ষেপের সম্মুখীন হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ থেকে বরখাস্ত হওয়া ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার কর্মীর মধ্যে ৩২৫ জন যুক্ত ছিলেন জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সঙ্গে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু ছাঁটাই বাতিল করা হয়েছে। আদালতের একটি আদেশ অনুযায়ী, সিএফপিবির কোনো কর্মীকে আপাতত চাকরিচ্যুত করা যাবে না।

এছাড়া ফেডারেল কর্মীদের ইউনিয়ন স্বেচ্ছা অবসরের প্রণোদনা পরিকল্পনা ঠেকাতে মামলা করেছে। একইসঙ্গে ডিওজির বিরুদ্ধে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনটি পৃথক মামলার শুনানি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় নিউইয়র্কের এক ফেডারেল জজ সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, যাতে ট্রেজারি বিভাগের অর্থপ্রদান ব্যবস্থায় মাস্কের দলের হস্তক্ষেপ বন্ধ থাকে। এই বিতর্কিত ছাঁটাই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরালো হচ্ছে। তবে ট্রাম্প ও মাস্ক প্রশাসনের নীতিগুলো শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us