তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন ওয়েবসাইট পরিবর্তন, চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন

তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন ওয়েবসাইট পরিবর্তন, চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া

  • ১৮/০২/২০২৫

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে তাদের ওয়েবসাইট থেকে ‘আমরা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করি না’—এই বিবৃতি সরিয়ে ফেলেছে। যাতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানান হয়েছে। চীন এই পরিবর্তনকে ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য ভুল বার্তা’ বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল সংশোধনের’ আহ্বান জানিয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, এটি একটি ‘স্বাভাবিক’ আপডেট মাত্র এবং তারা এখনো ‘এক চীন’ নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মূলত ‘এক চীন’ নীতির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে যেমন চীনকে স্বীকৃতি দেয়, তেমনি তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কূটনৈতিকও সম্পর্ক নেই। তবে দেশটি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সংগঠনে সদস্যপদ পাওয়ার ব্যাপারে সমর্থন দিয়ে আসছে। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ওই পরিবর্তনের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘এটি মার্কিন অবস্থানের গুরুতর পশ্চাদপসরণ এবং তাইওয়ানকে চীনবিরোধী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের আরেকটি উদাহরণ’।

চীনা মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে তাত্ক্ষণিকভাবে এই ভুল সংশোধন করতে এবং প্রকৃতভাবে ‘এক চীন’ নীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছি। এদিকে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিবর্তনকে ‘তাইওয়ান-বান্ধব ইতিবাচক শব্দচয়ন’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে তাইওয়ানে বেসরকারিভাবে কার্যক্রম পরিচালনাকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান—আমেরিকান ইনস্টিটিউট স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি যে, আমরা উভয় পক্ষের (তাইওয়ান ও চীন) একতরফাভাবে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের বিরোধিতা করি’। চীন মূলত তাইওয়ানকে তাদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ বলে মনে করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে একীভূত করার হুমকি দিয়ে আসছে। অন্যদিকে তাইওয়ানের অনেক অধিবাসী নিজেদের একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে দেখে। তবে বেশিরভাগই চীনের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চায়। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে এই নীতিগত পরিবর্তন তাইওয়ান ইস্যুতে চীন-মার্কিন সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us