যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কিত সম্ভবত সবচেয়ে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিয়েছেন। পারস্পরিক শুল্কের আহ্বান জানিয়ে একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। তিনি ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের একটি গ্রুপকে বলেন, “আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্রে আপনার পণ্য তৈরি করেন তাহলে কোনো শুল্ক আরোপ করা হবে না।”
এর লক্ষ্য হলো আমেরিকার বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনা। এই ঘাটতি আনুমানিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই পদক্ষেপের কারণে যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারত তার মধ্যে একটি। যুক্তরাষ্ট্রকে ভারতে তেল ও গ্যাসের প্রাথমিক সরবরাহকারী হিসেবে গড়ে তুলতে বৃহস্পতিবার দেশ দুটি একটি জ্বালানি চুক্তি ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে মোদীকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি ভারতের কাছে এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির পথ প্রশস্ত করবেন। তিনি আরও বলেন, উভয় নেতা ভারতের সাথে আমেরিকার প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করার জন্য শুল্ক হ্রাস করার ক্ষেত্রে কাজ করবেন। মোদী বলেন, তিনি এবং ট্রাম্প ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণের বেশি করে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। আমাদের টিম খুব শীঘ্রই পারস্পরিক লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে কাজ করবে। পারস্পরিক শুল্ক সম্পর্কে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, ভারতও এই পদক্ষেপের অধীনে পড়বে। হাডসন ইন্সটিটিউটের ইনিশিয়েটিভ অন দ্য ফিউচার অফ ইন্ডিয়া এন্ড সাউথ এশিয়ার পরিচালক অপর্ণা পান্ডে বলেন, ভারতের প্রতিবেশী ও প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন এমন উদ্বেগের মধ্যে নয়াদিল্লির কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করার উপায় খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন