২০২২ সালে টুইটার কেনার ঠিক আগে মাস্ক প্রতিশ্রুতি দেন, তার মালিকানায় প্লাটফর্মে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও বট কার্যক্রম কমে যাবে। ওই বছর এপ্রিলে তিনি এক পোস্টে বলেছিলেন, ‘যদি আমাদের টুইটার কিনে নেয়ার চেষ্টা সফল হয়, আমরা স্প্যাম বটদের পরাজিত করব, না হয় চেষ্টা করতে করতেই মরব।’ কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, সেটি বাস্তবে হয়নি, বিশেষ করে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, মাস্ক টুইটার কিনে নেয়ার পর থেকে কিছু অ্যাকাউন্ট একত্রিত হয়ে তথ্য প্রচার করার হার বেড়েছে। এ ধরনের সংঘবদ্ধ অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম সাধারণ অ্যাকাউন্টের চেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদন আরো বলছে, টুইটার অধিগ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই মাস্ক ‘অপ্রয়োজনীয়’ উল্লেখ করে কর্মী সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফলে কোম্পানির ৮০ শতাংশ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরি হারানো কর্মীদের মধ্যে ট্রাস্ট ও সেফটি টিম এবং কন্টেন্ট মডারেশন বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন। তাদের কাজ ছিল প্লাটফর্মে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত বা ক্ষতিকর কন্টেন্ট ফিল্টার করা।
গবেষণা বলছে, এক্সে হেট স্পিচ বৃদ্ধি ও কনটেন্ট মডারেশনের অভাবের কারণে বিজ্ঞাপনদাতারা দূরে সরে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে হাজার হাজার ব্যবহারকারী প্লাটফর্ম ছেড়েও চলে যাচ্ছেন। তবে এক্সের প্রধান নির্বাহী লিন্ডা ইয়াকারিনোর মতে, শিগগিরই প্লাটফর্মের কন্টেন্ট মডারেশন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। তিনি জোর দিয়েছেন যে বাকস্বাধীনতা রক্ষা করা তাদের অগ্রাধিকার।
এদিকে সম্প্রতি কনটেন্ট মডারেশন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার কথা জানায় ফেসবুকের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটা। তৃতীয় পক্ষের ফ্যাক্ট-চেকারদের সঙ্গে কাজ বন্ধ করে ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার একটি নতুন পদ্ধতি চালু করছে কোম্পানিটি। মেটা বলছে, এ পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা একটি উন্মুক্ত প্লাটফর্ম তৈরি করতে চায়, যেখানে সবাই তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে। তবে এ সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিকর কনটেন্ট বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন