ঘানা ও কেনিয়ায় কীটনাশক ও মশারি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র জরুরি ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ কর্মসূচির অনুমোদন দেয়নি। ঘানা ও কেনিয়ায় কীটনাশক ও মশারি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র জরুরি ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ কর্মসূচির অনুমোদন দেয়নি। হাইতিতে একটি এইচআইভি চিকিৎসা দল মায়েদের থেকে শিশুদের এ রোগ ছড়ানো ঠেকাতে ওষুধ বিতরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। মিয়ানমারে দুর্ভিক্ষ তীব্র হচ্ছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বিলম্ব মানবিক সংকট তৈরি করেছে। এসব ঘটনাসহ বিশ্বের অনেক দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি স্থগিতের কারণে দেখা দিয়েছে মানবিক সংকট ও বিশৃঙ্খলা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশী সহায়তা স্থগিত করার প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্বজুড়ে অনেক জীবন রক্ষাকারী কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে। মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত কর্মীরা সেগুলো পুনরায় চালু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে রয়টার্সকে বেশ কয়েকজন সহায়তা কর্মী ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
২০ জানুয়ারি ট্রাম্প ৯০ দিনের জন্য সহায়তা স্থগিতের ঘোষণা দেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিছু জরুরি মানবিক সহায়তার অনুমোদন (ছাড়) দেন। যার মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সেবা, খাদ্য, আশ্রয় ও মৌলিক জীবিকাসহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু সহায়তা কর্মী ও জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলেছেন, এ অনুমোদনগুলো ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল হয়তো পুনরায় সচল হবে না।
সহায়তা কর্মীরা বলেছেন, তারা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ পুনরায় শুরু করতে পারছেন না। কারণ তাদের নির্দিষ্ট কর্মসূচিগুলো ছাড়ের আওতায় পড়ে কিনা, তা তারা জানেন না। যেহেতু অনেক যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা বরখাস্ত হয়েছেন বা কথা বলার অনুমতি পাচ্ছেন না, ফলে যোগাযোগ ব্যর্থ হচ্ছে। যোগাযোগের ব্যর্থতা আংশিকভাবে ইচ্ছাকৃত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ৩১ জানুয়ারি ইউএসএআইডির (মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট) কর্মকর্তাদের বলা হয়েছিল বহির্বিশ্বের সঙ্গে ছাড়ের বিষয়ে কোনো আলোচনা না করতে। পাশাপাশি তারা কী অন্তর্ভুক্ত করছেন বা করছেন না, তা প্রকাশ না করতেও বলা হয়। রয়টার্স পর্যালোচিত একটি ফাঁস হওয়া বৈঠকের রেকর্ডিং থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোয়াইট হাউজ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
উন্নয়নশীল দেশগুলোয় সহায়তা স্থগিতের বাড়তে থাকা প্রভাব থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উপকারভোগীদের বেকায়দায় ফেলেছে। কয়েক দশক ধরে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় দাতা দেশ হয়ে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছিল। কিন্তু ট্রাম্পের পদক্ষেপ এ প্রচেষ্টাগুলোকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সহায়তা কর্মীদের সামনে অনেক জরুরি প্রশ্ন জেগেছে, কিন্তু সেগুলোর কোনো উত্তর তাদের কাছে নেই। তারা জানতে চেয়েছিলেন কোন কোন কর্মসূচি চালু রাখা যাবে, জীবন রক্ষাকারী সহায়তা বলতে কী বোঝানো হচ্ছে—খাদ্য, আশ্রয়, নাকি ওষুধ? যখন প্রায় সব সহায়তা পরিষেবা একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে, তখন মানুষকে বাঁচানোর উপায় কী? যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় সহায়তা কর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মসূচিগুলো বন্ধ করে দেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার পরিশোধ নাও করতে পারে এমন খরচ করা থেকে বিরত থাকছেন তারা। কিছু কর্মী জানান, তাদের দীর্ঘদিনের যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদাররা ফোন বা ই-মেইলের জবাব দিচ্ছেন না।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন