আমিরাতি বিনিয়োগে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে আফ্রিকার প্রপার্টি বাজার – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

আমিরাতি বিনিয়োগে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে আফ্রিকার প্রপার্টি বাজার

  • ১০/০২/২০২৫

দুবাই, আবুধাবি ও শারজার মতো ফুলেফেঁপে ওঠা প্রপার্টি বাজার শাসন করার পাশাপাশি আফ্রিকার দিকে নজর দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শীর্ষ কোম্পানিগুলো। আফ্রিকার গতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে সমৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখছে তারা। এরই মধ্যে অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে বড় বড় প্রজেক্টে বিনিয়োগ করেছে আমিরাতি জায়ান্টরা। সামনে বিনিয়োগ আরো বাড়বে বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকরা।
দ্য ন্যাশনালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, দুবাইয়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ইমার প্রপার্টিজ, দুবাই ইনভেস্টমেন্টস ও আবুধাবিভিত্তিক আলদার প্রপার্টিজ, ঈগল হিলস, মদন হোল্ডিং ও ইমকান আফ্রিকার বাজারে বিনিয়োগে এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে মিসর, অ্যাঙ্গোলা, মরক্কো ও ইথিওপিয়ায় বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্রকল্পে কোম্পানিগুলোর উপস্থিতি বাড়ছে। এছাড়া জিম্বাবুয়ের একটি প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে শারজাহভিত্তিক বহুমুখী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মুল্ক ইন্টারন্যাশনাল। কোম্পানিটি রিয়েল এস্টেট, উৎপাদন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে কাজ করে।
রিয়েল এস্টেট খাতের প্রতিষ্ঠান জেএলএলের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা বিভাগের গবেষণাপ্রধান তাইমুর খান বলেন, ‘বড় আকারে প্রবৃদ্ধির গতি দেখা যাচ্ছে আফ্রিকায়। আগামী কয়েক দশকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নগরায়ণ আরো গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।’
স্ট্যাটিস্টা অনুযায়ী, আফ্রিকার জনসংখ্যা ২০২৩ সালে ছিল প্রায় ১৪৬ কোটি, যা ২০৫০ সাল নাগাদ প্রায় ২৫০ কোটিতে পৌঁছবে। এ অঞ্চলের সবচেয়ে জনবহুল দেশের মধ্যে রয়েছে নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া ও মিসর। আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আফ্রিকার অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ হবে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, যা আগের বছরের ৩ দশমিক ৭ শতাংশের তুলনায় বেশি। নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ২০২৫-২৯ সালের মধ্যে আফ্রিকার প্রপার্টি বাজার গড়ে প্রতি বছর ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ সম্প্রসারণ হবে। এর ফলে ২০২৯ সালের মধ্যে বাজারের আকার হবে ২১ লাখ ৯২ হাজার কোটি ডলার। তাইমুর খান বলেন, ‘নাইজেরিয়া ও কেনিয়ার মতো কিছু মূল বাজারে মানসম্পন্ন প্রপার্টির অভাব রয়েছে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রিয়েল এস্টেট কোম্পানির জন্য বিনিয়োগের একটি শক্তিশালী সুযোগ তৈরি করেছে।’
আমিরাতের কোম্পানির মধ্যে আফ্রিকায় দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে দুবাই ইনভেস্টমেন্টসের। অ্যাঙ্গোলা, মিসর, কেনিয়া ও মরক্কোয় তাদের প্রকল্প রয়েছে। বৈচিত্র্যময় এ হোল্ডিং কোম্পানিতে আরব আমিরাতের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব দুবাইয়ের হিস্যা রয়েছে। দুবাই ইনভেস্টমেন্টস মিসর, কেনিয়া ও মরক্কোয় স্কুল পরিচালনা করছে। অ্যাঙ্গোলার রাজধানী লুয়ান্ডার কাছে দুবাই ইনভেস্টমেন্টস পার্ক অ্যাঙ্গোলা নামে দুই হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ করছে, যেখানে বাণিজ্যিক, আবাসিক, শিল্প ও গুদাম ইউনিট থাকবে। দুবাই ইনভেস্টমেন্টসের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী খালিদ বিন কালবান বলেন, ‘আফ্রিকায় বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমরা সেখানে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছি।’
২০২৪ সালের জুনে দুবাই ইনভেস্টমেন্টস পার্ক অ্যাঙ্গোলার নির্মাণ শুরু হয়েছে এবং এটি ১২-১৫ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। খালিদ বিন কালবান বলেন, ‘এ প্রকল্প অ্যাঙ্গোলার বিপুল সংখ্যক নাগরিকের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও যন্ত্রপাতি নিয়ে আসবে।’
অন্যদিকে শারজার মুল্ক ইন্টারন্যাশনাল জিম্বাবুয়েতে ৫০ কোটি ডলারের একটি প্রকল্পে যুক্ত, যেখানে আবাসন ও অফিস অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ প্রকল্পে বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে (এফডিআই) জিম্বাবুয়ে সরকারের দেয়া বিভিন্ন প্রণোদনা ও আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে কোম্পানিটি। প্রকল্প সম্পর্কে মুল্ক ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান শাজিউল মুল্ক বলেন, ‘৫০ লাখ বর্গফুটের এ প্রকল্পকে সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক মুক্ত অঞ্চল ঘোষণা করেছে। যেখানে বাসিন্দা ও ব্যবহারকারীর জন্য করমুক্ত সুবিধা রয়েছে।’
আফ্রিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগের জন্য অন্যতম গন্তব্য মিসর। সাম্প্রতিক বছরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৩ সালে আবুধাবির হোল্ডিং কোম্পানি এডিকিউ মিসরে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে রাস এল হেকমা অঞ্চলে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এডিকিউ মিসরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা তাদের ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের আমানতকে মিসরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য প্রধান প্রকল্পে বিনিয়োগে রূপান্তরের কথাও জানিয়েছে। চুক্তিটি মিসরের বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মোকাবেলায় সহায়ক ছিল। এর পরই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মিসরের জন্য ৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন দেয়।
ইমার প্রপার্টিজের সহযোগী ইমার মিসর দেশটিতে মারাসি, কাইরো গেট, আপটাউন কাইরো, সোল ও বেলে ভি প্রকল্প পরিচালনা করছে। ২০২৩ সালে ইমার জানায়, তারা মিসরের উত্তর উপকূলে ২ হাজার ৬৩০ কোটি মিসরীয় পাউন্ড বিনিয়োগে ১০টি হোটেল নির্মাণ করবে। এছাড়া ইউইএ মালিকাধীন আরো কিছু বড় প্রকল্পে মিসরে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এদিকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মদন হোল্ডিং মরক্কোর রাজধানী রাবায় একটি ফাইভস্টার হোটেল উদ্বোধন করেছে, যা পরিচালনা করবে ফোর সিজনস। ইমার মরক্কোর মারাকেশে একটি প্রকল্প নির্মাণ করছে, যেখানে হোটেল, শপিং সেন্টার ও ভিলা থাকবে। দুবাইয়ের বিলাসবহুল সম্পত্তি ডেভেলপার দমাকও আফ্রিকায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। এছাড়া সম্প্রতি কেনিয়া ও মরিশাসের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই হয়েছে, যা আফ্রিকায় বিনিয়োগ আরো বাড়াবে।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us