বিশ্বব্যাপী ট্যাবলেট বিক্রি বেড়েছে ৯ শতাংশ – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন

বিশ্বব্যাপী ট্যাবলেট বিক্রি বেড়েছে ৯ শতাংশ

  • ০৯/০২/২০২৫

২০২৪ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাপী ট্যাবলেট বিক্রি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৪ কোটি ইউনিটে পৌঁছেছে। ফলে গত বছর মোট বিক্রি ছাড়িয়েছে ১৪ কোটি ইউনিট, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এ সময় বৈশ্বিক ট্যাবলেট বাজারে আইপ্যাড সিরিজের মাধ্যমে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। বাজার গবেষণা সংস্থা ক্যানালিসের গত সপ্তাহের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
সংস্থাটি বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, উত্তর আমেরিকা ব্যতীত প্রায় সব স্থানেই ট্যাবলেটের বিক্রি গত বছর ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ক্যানালিসের গবেষণা ব্যবস্থাপক হিমানি মুক্কা এ বিষয়ে বলেন, ‘একদিকে পিসি বাজার এখন একটি বাণিজ্যিক “রিফ্রেশ সাইকেলের” দিকে এগোচ্ছে, অর্থাৎ নতুন করে জনপ্রিয় হচ্ছে। অন্যদিকে ট্যাবলেটের চাহিদায়ও পুনরুদ্ধার ঘটছে।’
গবেষণা সংস্থাটি ব্যবসায়িক ট্যাবলেট বিক্রি করে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্প্রতি একটি জরিপ পরিচালনা করে। ফলাফলে দেখা যায়, ৫২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশা করছে, চলতি বছর তাদের বিক্রি বাড়বে। ৩২ শতাংশের ধারণা, এ সময় তাদের বিক্রি একই রকম থাকবে। অন্যদিকে ১৬ শতাংশ মনে করছে তাদের বিক্রি কমবে। জরিপে আরো বলা হয়েছে, বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রচুর সুযোগ থাকছে সামনে। কারণ আইটি খাতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুপারটিনোভিত্তিক অ্যাপল বর্তমানে ট্যাবলেট বিক্রিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, অন্যদিকে এর অ্যান্ড্রয়েড প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তবে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মধ্যে বিক্রিতে ব্যবধান অনেক বেশি। ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে স্যামসাং ৭০ লাখ ট্যাবলেট সরবরাহ করেছে, যা অ্যাপলের ১ কোটি ৭০ লাখ ইউনিট বিক্রির তুলনায় অনেক কম।
ক্যানালিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ দুই জায়ান্টের পাশাপাশি ২০২৪ সালে ট্যাবলেট বাজারে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল চীনা বিক্রেতারা। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষস্থানে আছে শাওমি। চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে বেশি ট্যাবলেট বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অ্যামাজনকে পেছনে ফেলে পঞ্চম স্থানে পৌঁছেছে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে যথাক্রমে হুয়াওয়ে ও লেনোভো।
২০১০ সালে প্রথম আইপ্যাড উন্মোচনের পর থেকে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছে ট্যাবলেট ডিভাইস। প্রযুক্তিবিদদের মতে, আইপ্যাড একটি বিপ্লবী পণ্য ছিল, যা বাজারটির বড় পরিবর্তন আনে। এটি প্রকাশের পরই অন্যান্য কোম্পানি তাদের নিজস্ব ট্যাবলেট বাজারে আনতে শুরু করে। সাশ্রয়ী স্মার্টফোন ও পিসির সহজলভ্যতার যুগে এ ডিভাইসের চাহিদা খুব একটা কমেনি। এগুলো ফোনের তুলনায় বড়, কিন্তু ল্যাপটপের চেয়ে ছোট হওয়ায় চলাফেরার মধ্যে কাজ করতে সুবিধাজনক। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনের মতো ট্যাবলেটের গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে। কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীর সুবিধার কথা চিন্তা করে নতুন নতুন ফিচার ও আপডেটসহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট নিয়ে আসছে বাজারে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, কভিড-১৯ মহামারীর সময় ওএলইডি ট্যাবলেটের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধারা চলমান থাকবে এবং ২০২৫ সালে ট্যাবের ব্যবহার আরো বাড়বে। প্রধানত ই-মেইল পাঠানোর জন্য ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ৫৪ শতাংশ ব্যবহারকারী মূলত এ কাজের জন্যই ডিভাইসটি চালায়। সংবাদ পড়া ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এর জনপ্রিয়তা রয়েছে।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us