ডলারের সাপেক্ষে টাকার তলানিতে ঠেকা দামে উদ্বেগ বাড়ছে। আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রের যদিও দাবি, টাকার দৈনিক ওঠাপড়া নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। বাজারই স্থির করবে তার দর।
এক দিকে বাজেটে দেওয়া আয়কর ছাড় এবং অন্য দিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সুদ কমানো। এই দুইয়ের হাত ধরে দেশে চাহিদায় গতি আসবে এবং বেসরকারি লগ্নি মাথা তুলবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শনিবার রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের পর্ষদের সঙ্গে বাজেট পরবর্তী বৈঠকের শেষে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘অনেক শিল্প-কর্তাই জানিয়েছেন এপ্রিল-জুনের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভোগ্যপণ্যের বরাত এসেছে। ফলে আশা করা যায়, চাহিদা বাড়বে।’’ এ দিকে, ডলারের সাপেক্ষে টাকার তলানিতে ঠেকা দামে উদ্বেগ বাড়ছে। আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রের যদিও দাবি, টাকার দৈনিক ওঠাপড়া নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। বাজারই স্থির করবে তার দর।
দেশে চাহিদা শ্লথ হয়েছে চড়া মূল্যবৃদ্ধি এবং সেই অনুপাতে বহু মানুষের আয় বৃদ্ধি না হওয়ার কারণে। যে কারণে আর্থিক বৃদ্ধিতেও এসেছে ঝিমুনি। সাধারণ মানুষের হাতে বাড়তি টাকার ব্যবস্থা করতে তাই বাজেটে আয়করে সুরাহা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। যার হাত ধরে মোট ১ লক্ষ কোটি টাকা অতিরিক্ত আসবে তাঁদের পকেটে। অন্য দিকে, শিল্প এবং খুচরো ঋণে সুদের বোঝা কমাতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক সুদ কমিয়েছে ২৫ বেসিস পয়েন্ট। নির্মলার মতে, এই অবস্থায় বরাত বৃদ্ধি পাওয়া চাহিদাই লক্ষণ। তাতে সংস্থাগুলিও কারখানা পুরোদমে চালাবে। সেই সঙ্গে আগামী দিনেও তাঁরা আর্থিক বৃদ্ধিতে গতি আনতে এবং মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করবেন বলেও জানান নির্মলা। পাশাপাশি, তিনি বলেন পরের সপ্তাহে লোকসভায় পেশ হতে পারে নতুন আয়কর আইন। শুক্রবার যেটিতে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এ দিকে, সম্প্রতি ৮৭.৫০ টাকা ছাড়িয়ে নতুন নজির গড়েছে ডলার। তার উপরে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে টাকার দামের আরও দোলাচলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অর্থনীতিবিদেরা। যার প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে পারে বলে ধারণা তাঁদের। শনিবার মলহোত্র বলেন, টাকার দামে অস্থিরতা মূলত ভূ-রাজনৈতিক ও আর্থিক তথা আমেরিকার বাণিজ্য নীতির কারণে। আগামী দিনে তার দর স্থির করবে বাজারই। টাকার দামের দৈনন্দিন ওঠাপড়া নিয়ে শীর্ষ ব্যাঙ্ক চিন্তিত নয়।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন