জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে শুক্রবার অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের পর যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ইশিবা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ আরও বেশি বৃদ্ধি করে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে তিনি তা নিয়ে যেতে চাইছেন। ইশিবা বলেছেন, “বৈঠকের সাফল্যের উপর ভিত্তি করে জাপান-মার্কিন সম্পর্কে নতুন একটি স্বর্ণযুগ গড়ে তুলতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কাজ করার আশা আমি করি।”
দুই নেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্প এবং সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাপানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি বৃদ্ধি করে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করে নিতে তারা সম্মত হয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা খুবই আনন্দিত যে তারা, বিশেষ করে জাপান, অবিলম্বে তা শুরু করতে যাচ্ছে।” চুক্তির আরেকটি ক্ষেত্র ছিল নিরাপত্তা নীতি। দুই নেতা বলেছেন একটি অবাধ ও মুক্ত ভারত-মহাসাগর অঞ্চলের লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিবারক ও জবাব দেয়ার সামর্থ্য জোরদার করে নিতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তারা আরও বলেছেন যে কোয়াড নিরাপত্তা সংলাপের মত আন্তর্জাতিক কাঠামোর মাধ্যমে অন্যান্য দেশের সাথে সহযোগিতা তারা জোরদার করে নেবেন। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সাথে জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে এই জোটের সদস্য। চীনের পদক্ষেপ সম্পর্কে ইশিবা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে দেয়া জাপান-মার্কিন নিরাপত্তা চুক্তির পঞ্চম ধারা যে ওকিনাওয়া জেলার সেনকাকু দ্বীপমালার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, নেতারা তা নিশ্চিত করেছেন। জাপান এই দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। চীন ও তাইওয়ান দ্বীপগুলোর মালিকানা দাবি করে। সরকার এই অবস্থান বজায় রেখে চলেছে যে দ্বীপগুলো হচ্ছে জাপানি ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইশিবা এবং ট্রাম্প তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্বও নিশ্চিত করেছেন। উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে তারা দেশটির সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য অর্জনে একসাথে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। ইশিবা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার চরদের জাপানি নাগরিক অপহরণের তাৎক্ষণিক সমাধান প্রশ্নে ট্রাম্পের কাছ থেকে জোরালো সমর্থন তিনি পেয়েছেন।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন