সর্বোচ্চ আমদানি শুল্ক হ্রাসের পর, ভারত বিলাসবহুল গাড়ি ও রাসায়নিকসহ ৩২টি পণ্যের ওপর ৫ থেকে ৭০ শতাংশ হারে কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন উপকর (এআইডিসি) আরোপ করেছে। পূর্বে এসব পণ্য এআইডিসি শুল্কমুক্ত ছিল। বিলাসবহুল গাড়ি, সোলার সেল এবং রাসায়নিকসহ ৩০ টিরও বেশি মার্কিন পণ্যের আমদানি শুল্ক পর্যালোচনা করার পরিকল্পনা করছে ভারত। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির পালটা ব্যবস্থা হিসেবে ভারত এরই মধ্যে কিছু উচ্চমূল্যের বাইক, গাড়ি ও রাসায়নিকের ওপর শুল্ক হ্রাস করেছে। তবে, এর সঙ্গে ‘কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন উপকর’ (এআইডিসি) নামে একটি বিকল্প শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা বেশ কিছু পণ্যের ওপর নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বাজেটে ভারত বেশ কয়েকটি পণ্যের আমদানি শুল্ক হ্রাস করেছে, যার মধ্যে বিলাসবহুল যানবাহন, সোলার সেল ও যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত। সর্বোচ্চ আমদানি শুল্ক ১৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে, আর গড় শুল্ক হার ১৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশের নিচে নামানো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন উপকর (এআইডিসি) বৃদ্ধি করা হয়েছে।
রাসায়নিক ও ল্যাব সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। ল্যাবরেটরি রাসায়নিকের আমদানি শুল্ক ১৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে, তবে এঢ় সাথে আবার ৭০ শতাংশ এআইডিসি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। নির্মাণ সামগ্রীর মধ্যে মার্বেল, গ্রানাইট ও স্ল্যাবের আমদানি শুল্ক ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও, এর ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। গৃহস্থালী ও অন্যান্য পণ্যের মধ্যে জুতা ও এর কাঁচামালের ওপর ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ, সাইকেলের ওপর ১৫ শতাংশ এবং গৃহস্থালী আসবাবপত্র, স্মার্ট বৈদ্যুতিক মিটার ও ইলেকট্রনিক খেলনার যন্ত্রাংশের ওপর ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এ শুল্ক নীতি একদিকে বিদেশি পণ্যের প্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতেও ভূমিকা রাখবে। তবে আমদানি নির্ভর শিল্পের জন্য এটি কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন