বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের আয় বেড়েছে ১৮ শতাংশ – The Finance BD
 ঢাকা     রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের আয় বেড়েছে ১৮ শতাংশ

  • ০৮/০২/২০২৫

২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের আয় আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৬২ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে। চলতি বছর খাতটির আয় ৭০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে পারে। কানেকটিকাটভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনারের সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানালিস্ট জর্জ ব্রকলহার্স্ট বলেন, ‘২০২৪ সালে সেমিকন্ডাক্টর খাতের মূল চালিকাশক্তি ছিল গ্র্যাফিকস প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) ও ডাটা সেন্টার অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসেসর (সার্ভার ও অ্যাক্সিলারেটর কার্ড)।’ তিনি জানান, এআই ও জেনারেটিভ এআইভিত্তিক (জেনএআই) কাজের জন্য বাড়তি চাহিদা, ২০২৪ সালে ডাটা সেন্টারকে সেমিকন্ডাক্টরের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজারে পরিণত করেছে। তালিকায় প্রথম স্থানে আছে স্মার্টফোন। গার্টনারের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ডাটা সেন্টার থেকে সেমিকন্ডাক্টরের আয় হয়েছে ১১ হাজার কোটি ডলারের বেশি। অর্থের এ অংক ২০২৩ সালের ৬ হাজার ৪৮০ কোটি ডলারের তুলনায় অনেক বেশি, প্রায় দ্বিগুণ। বাজারের ইতিবাচক আয়ের প্রতিবেদনে সেমিকন্ডাক্টর বিক্রেতাদের র‍্যাংকিংয়েও প্রভাব ফেলেছে। গত বছর ১১টি প্রতিষ্ঠান দ্বিগুণ হারে প্রবৃদ্ধি দেখেছে। ২৫টি শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর বিক্রেতার মধ্যে আটটি কোম্পানির আয় এ সময় নিম্নমুখী ছিল।
গার্টনার বলছে, ইন্টেলকে পেছনে ফেলে আবারো শীর্ষস্থান দখল করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। এ সময় মেমোরি ডিভাইসের (যেমন র‍্যাম) দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি কোম্পানির প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। এক সময়ের যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ চিপ নির্মাতা ইন্টেল ২০২৪ সালে এক ধাপ নিচে নেমে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। কোম্পানির এআই পিসিসহ নতুন পণ্যগুলোর সীমিত সাফল্য এ পতনের মূল কারণ। ইন্টেলের সেমিকন্ডাক্টরের আয় ২০২৪ সালে দশমিক এক শতাংশ বেড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় সমান। অন্যদিকে শক্তিশালী এআই ব্যবসার কারণে দুটি ধাপ ওপরে উঠে শীর্ষ তিনে পৌঁছেছে চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপজেমিনি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ফাইভজি, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও এজ কম্পিউটিংয়ের মতো প্রযুক্তিগুলো উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে। প্রায় ৬০ শতাংশ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানির মতে, এসব প্রযুক্তি তাদের মূল ব্যবসায়িক লক্ষ্যকে প্রভাবিত করছে। নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট (এনপিইউ) ও শক্তিশালী গ্র্যাফিকস প্রসেসিং ইউনিটের (জিপিইউ) মতো বিশেষায়িত চিপগুলোর চাহিদা বেশি।
বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছর চিপ নির্মাণের ক্ষেত্রে এআই ও হাই পারফরম্যান্স কম্পিউটিং নতুনত্ব আনবে। ফলে দুই ন্যানোমিটার প্রযুক্তি ও চিপ প্যাকেজিং উন্নত হবে, যা সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
২০২৫ সালে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কেপিএমজি ও গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্স। জরিপ অনুযায়ী, এ সফলতার প্রধান চালিকাশক্তি হবে এআই। ৯২ শতাংশ নির্বাহীর প্রত্যাশা, এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং, ওয়্যারলেস ও অটোমোটিভ অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি চলমান থাকবে।
আধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মূল উপাদান সেমিকন্ডাক্টর। স্মার্টফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা, টেলিভিশন, ওয়াশিং মেশিন, ফ্রিজ ও এলইডি বাল্বের মতো দৈনন্দিন ব্যবহার্য ডিজিটাল পণ্যতে এর ব্যবহার রয়েছে। যেমন এয়ার কন্ডিশনারে ব্যবহৃত তাপমাত্রার সেন্সর সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি। রাইস কুকার এ প্রযুক্তির সাহায্যে তাপমাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, যা নিখুঁতভাবে রান্না করতে সাহায়তা করে।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us