ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, কেউ ইলন মাস্ককে কোনো কিছুর জন্য নির্বাচিত করেনি। তবুও অনির্বাচিত ইলন মাস্ক সেই ক্ষমতা দখল করছেন, যা মূলত আমেরিকার জনগণের। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে এখানে এসেছি। এটি আর স্বাভাবিক ব্যবসার মতো চলতে পারে না। ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সামনে জড়ো হয়ে ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে শত শত প্রতিবাদকারী এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। মাস্কের ‘ফেডারেল আর্থিক সিস্টেমের শত্রুতাপূর্ণ দখল’ এর নিন্দা জানিয়ে জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা ভবনের বাইরের রাস্তাগুলোও আটকে দেন।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনের ট্রেজারি বিভাগের সামনে এই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের তথাকথিত ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডিওজিই) টিমের কাছে স্পর্শকাতর ফেডারেল আর্থিক ডেটার প্রবেশাধিকার যাওয়া। এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা পেমেন্ট, মেডিকেয়ার ফেরত প্রদান এবং কর ফেরতের মতো ট্রিলিয়ন ডলারের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, কেউ ইলন মাস্ককে কোনো কিছুর জন্য নির্বাচিত করেনি। তবুও অনির্বাচিত ইলন মাস্ক সেই ক্ষমতা দখল করছেন, যা মূলত আমেরিকার জনগণের। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে এখানে এসেছি। এটি আর স্বাভাবিক ব্যবসার মতো চলতে পারে না। ওয়ারেন আরো বলেন, ইলন মাস্ক এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনে বিনিয়োগের ফল নিতে এসেছেন। তিনি আমেরিকার পেমেন্ট সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ দখল করেছেন। ওয়ারেনের মতে, এই নিয়ন্ত্রণের অর্থ হচ্ছে— মাস্ক চাইলে তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে তাকে সমালোচনা করা ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা পেমেন্ট বন্ধ করে দিতে পারেন, কিংবা এমন চিকিৎসকদের অর্থ প্রদান আটকে দিতে পারেন, যারা তার মতের বিরুদ্ধে কোনো চিকিৎসা প্রদান করেন। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি ম্যাক্সওয়েল ফ্রস্ট বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, তার (মাস্ক) কাছে আমাদের সব তথ্য, আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, ফেডারেল পেমেন্ট সিস্টেমের ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কী তাকে জনগণের অর্থ চুরির হাত থেকে থামাবে?
বিক্ষোভে প্রায় এক ডজন কংগ্রেস সদস্য অংশ নেন, যার মধ্যে ছিলেন— ম্যাক্সিন ওয়াটার্স, আল গ্রিন, আয়ান্না প্রেসলি, সিনেটর চাক শুমার, জেফ মার্কলি এবং রিচার্ড ব্লুমেনথাল। জেসমিন ক্রকেট বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, আমরা চুপ করে বসে থাকব না, যখন মাস্ক এসে আমাদের সংবিধানকে অপবিত্র করবে। আমরা তোমার মুখোমুখি হব এবং তোমার বিরুদ্ধে লড়াই করব। এর কিছুক্ষণ আগে ক্রকেট, প্রেসলি, ফ্রস্ট ও জেমি রাসকিনসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা ট্রেজারি ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে নিরাপত্তা রক্ষীরা তাদের বাধা দেয়। এর আগে সিনেটর ক্রিস মার্ফি বলেন, আমরা ধনকুবেরদের প্রতি আনুগত্যের শপথ করি না। আমরা ইলন মাস্কের জন্য কাজ করা অস্বস্তিকর ২২ বছর বয়সীদের প্রতিও আনুগত্য প্রকাশ করি না। আমরা ইলন মাস্কের হাত থেকে এই দেশকে ফিরিয়ে আনতে চাই। এদিকে ব্লুমবার্গের খবরে জানানো হয় যে, ট্রেজারি বিভাগ নিশ্চিত করেছে, মাস্কের টিমকে সরকারের পেমেন্ট সিস্টেম শুধুমাত্র দেখার অনুমতি দেয়া হয়েছে। সিনেটর রন ওয়াইডেনকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রেজারির প্রধান উপসহকারী সচিব জোনাথন ব্লাম লিখেছেন যে, এই ব্যবস্থা এখনো শক্তিশালী ও কার্যকর এবং কোনো সরকারি সংস্থার বৈধ অর্থপ্রদানের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়নি। তবে এই ব্যাখ্যা বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগ কমাতে পারেনি। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সাবেক ফেডারেল কর্মকর্তা— যেমন অ্যালেক্সা ফ্রেজার, যিনি জনস্বাস্থ্য গবেষণায় কাজ করেছেন। তিনি বলেন, মাস্ক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কী কী সুরক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ করেছেন? তিনি এই তথ্য কার কাছে বিক্রি করেছেন?
সেন্ট্রাল ভার্জিনিয়া থেকে দুই ঘণ্টারও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেয়া ডেভ স্টোকলি এই পুরো ঘটনাকে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি এটি ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারের অবকাঠামো ধ্বংসের একটি পদক্ষেপ। তারা ভালো-মন্দ সবকিছু একসঙ্গে ছুঁড়ে ফেলছে। সিনেটর ব্লুমেনথাল স্পষ্ট ভাষায় বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রত্যেক আমেরিকানের তথ্য এখন ঝুঁকির মধ্যে। ইলন মাস্ক যা স্পর্শ করেন, তা থেকেই তিনি অর্থ উপার্জন করেন। খবর :দ্য গার্ডিয়ান।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন