২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। বিষয়টি হলো ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের ঋণের সীমা বাড়াতে তিন শিল্পেরই সংজ্ঞা বদলে দিয়েছেন তিনি। সীমা বেড়েছে অনেকটাই। অনেক দিন ধরেই ভারতের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) অবস্থা ভালো নয়। এই শিল্পের আশা ছিল, সরকারি সহায়তা বাড়ানো হবে। বিশেষ করে কোভিডের পর থেকে এই দাবি আরও জোরালো হয়। কিন্তু গত দু-তিন বছরের বাজেটে সেসব দাবি বারবার অপূর্ণ থেকে গেছে; এবারের বাজেটে তার কিছুটা ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন নির্মলা সীতারমণ। মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইকোনমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও ব্যবসার অঙ্কের যে সীমা ছিল, তা যথাক্রমে আড়াই গুণ ও দ্বিগুণ করা হয়েছে। ফলে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান যেমন এই শিল্পের আওতায় ঢুকবে, তেমনি বাড়বে কর্মসংস্থান। বর্তমানে ভারতে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের সীমা ২ দশমিক ৫ কোটি রুপি; ছোট ও মাঝারি হলে যথাক্রমে ২৫ কোটি ও ১২৫ কোটি টাকা। তিন ধরনের প্রতিষ্ঠানের মোট ব্যবসার অঙ্ক হতে হয় যথাক্রমে ১০ কোটি, ১০০ কোটি ও ৫০০ কোটি রুপির মধ্যে। বাজেটে এসব সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের বাণিজ্য সংগঠনগুলো। তারা বলছে, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি খাতের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে এই বাজেট। সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধির পালে হাওয়া লাগাতে যেভাবে সীমা বাড়ানো হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। ডিমনিটাইজেশন বা বড় নোট বাতিল, তারপর জিএসটি ও কোভিড—একের পর এক ধাক্কা এসেছে ভারতের এসএমই শিল্পে। কোভিডের পরেই ছোট শিল্পের যে সাহায্য দরকার ছিল, অবশেষে তা ২০২৫ সালে এসে মিলল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত থেকে দুই লাখ কোটি ডলার রপ্তানির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে সেই লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করার পথ প্রশস্ত হবে। ভারতে ৫ দশমিক ৭ কোটির বেশি নথিভুক্ত এমএসএমই আছে। সব মিলিয়ে এ ক্ষেত্রে কাজ করেন সাড়ে ২১ কোটি মানুষ। ভারতের মোট উৎপাদনের ৩৬ শতাংশ আসে এমএসএমই থেকে। ভারতের রপ্তানি আয়ের ৪৫ শতাংশই আসে এমএসএমই থেকে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে ভারতের এমএসএমই শিল্প আরও উৎপাদনশীল হবে এবং পরিণামে কর্মসংস্থান বাড়বে। মন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবের ঘোষণা অনুযায়ী, আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ ও ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত টার্নওভার থাকা সংস্থা ‘অতি ক্ষুদ্র’ হিসেবে গণ্য হবে। ২৫ কোটি রুপি পর্যন্ত ও ১০০ কোটি রুপি পর্যন্ত টার্নওভার থাকা সংস্থা ‘ছোট’ এবং ১২৫ কোটি রুপি পর্যন্ত বিনিয়োগ ও ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থাকা সংস্থা ‘মাঝারি’ হিসেবে গণ্য হবে। পশ্চিমবঙ্গ এসএমইতে ভারতের এক নম্বর রাজ্য হওয়ায় কেন্দ্রের এই ঘোষণায় সেখানকার অতি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলো উপকৃত হবে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন