উদ্ভাবন, ভোক্তা চাহিদার পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রক নীতির কারণে বৈশ্বিক শ্রমবাজার ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। চলতি দশকের শেষ নাগাদ সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে। যেখানে দেখা যেতে পারে, কিছু পেশায় কর্মসংস্থান যে গতিতে কমছে, বিপরীত দিকে নতুন কিছু ক্ষেত্রে আরো দ্রুতগতিতে চাকরি তৈরি হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘ফিউচার অব জবস রিপোর্ট ২০২৫’ সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের এ প্রবণতা তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে চলতি বছর থেকে ২০৩০ সালের চাকরি বাজারের পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এ বাজার একটি সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূলত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি, যা নতুন দক্ষতার চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হবে। তবে একই সময়ে তৈরি হবে ১৭ কোটি নতুন চাকরি। ২০২৫-৩০ সালের মধ্যে ৩৯ শতাংশ কর্মীর বর্তমান দক্ষতা পরিবর্তিত বা অপ্রচলিত হয়ে যাবে। বৈশ্বিক শ্রমবাজারের এ পুনর্গঠনে পাঁচটি প্রধান কারণ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো হলো প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, পরিবেশবান্ধব বা সবুজ প্রযুক্তির প্রসার, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূ-অর্থনৈতিক বিভাজন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে কিছু খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ দ্রুত বাড়ছে। এ বিষয়ে জরিপে অংশ নিয়েছেন এক হাজারের বেশি বৈশ্বিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা। সেখান থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল পদ হলো বিগ ডাটা স্পেশালিস্ট। এ পদে কর্মী চাহিদা চলতি বছরের তুলনায় বাড়বে ১১৩ শতাংশ। এরপর থাকবে ফিনটেক ইঞ্জিনিয়ার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং স্পেশালিস্ট, সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা স্পেশালিস্ট, ডাটা ওয়্যারহাউজ স্পেশালিস্ট এবং চালকবিহীন ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি স্পেশালিস্টের চাহিদা।
প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে অনেক সাচিবিক কাজে মানুষের গুরুত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাকরি হারাবে এ পেশার মানুষ। এর মধ্যে ১ কোটি ৬৩ লাখ ক্যাশিয়ার ও টিকিট বিক্রেতা চাকরি হারাবে, যা মোট চাকরি হ্রাসের ১৮ শতাংশ।
সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল চাকরির তালিকায় আধিপত্য করছে কৃষিজীবী, শ্রমিক ও অন্য কৃষিকর্মীরা। এ খাতে ১ কোটি ৪১ লাখ চাকরি কমার পাশাপাশি ৪ কোটি ৯০ লাখ নতুন চাকরি সৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে। ফলে পরবর্তী পাঁচ বছরে কৃষিতে মোট ৩ কোটি ৪৯ লাখ চাকরির নিট বৃদ্ধি হবে। অন্যদিকে ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি হ্রাসের পাশাপাশি ১৭ কোটি নতুন চাকরি সৃষ্টির ফলে মোট নিট বৃদ্ধি হবে ৭ কোটি ৮০ লাখ চাকরি। এর মধ্যে কৃষি ও কৃষিক্ষেত্র দখল করে রাখবে নিট বৃদ্ধির ৪৫ শতাংশ। খবর: ইউরোনিউজ।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন