মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চড়া শুল্ক আরোপের সময়সীমা শেষের দিকে আসায় উদ্বেগে পড়েছে উত্তর আমেরিকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষক ও ভোক্তারা। ট্রাম্প তার কথামতো শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে বার্ষিক প্রায় এক দশমিক ছয় ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্যে বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন, প্রাণঘাতী ওপিওয়েড ফেন্টানিল এবং এর প্রক্রিয়াজাত রাসায়নিকের প্রবাহ ঠেকাতে কানাডা ও মেক্সিকোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায় তাদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
এছাড়া, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প আরও বলেছেন, বেইজিংকে শায়েস্তা করতে বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা এখনও বিবেচনা করছেন তিনি।
তার বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে দিশেহারা অবস্থায় আছে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। শুল্ক আরোপে ট্রাম্পের পরিকল্পনাটা কী বা আসলেই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুরো ২৫ শতাংশই আরোপ করবেন কিনা- তা বোঝার জন্য যেখান থেকে পারে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টায় আছে তারা।
মার্কিন ইতিহাসের পুরোনো ঘটনার বরাতে বলা যায়, তাৎক্ষণিকভাবে শুল্ক কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিলেও মার্কিন কাস্টমস ও সীমান্ত প্রতিরক্ষা বিভাগকে দু থেকে তিন সপ্তাহের আগাম নোটিশ দিতে হয়।
ট্রাম্প বলেছেন, কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানি করা তেলের ওপরও শুল্ক আরোপ করা হবে কিনা, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তার এই কথায় ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসোলিনের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তিত তিনি। মার্কিন জনসংখ্যা ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, কানাডা থেকে সর্বোচ্চ আমদানি করা পণ্য এবং মেক্সিকো থেকে আমদানি করা শীর্ষ পাঁচ পণ্যের মধ্যে আছে অপরিশোধিত তেল।
ট্রাম্পের শীর্ষ বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো শুক্রবার বলেছেন, নতুন শুল্কের কারণে যে রাজস্ব আয় হবে, তা ২০১৭ সালে ট্রাম্পের ঘোষিত চার ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কর ছাড় সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে, যা এ বছর শেষ হতে যাচ্ছে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন