মার্কিন প্রেসিডেন্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, যদি আপনি এটি সস্তায় করতে পারেন, যদি আপনি কম খরচে একই ফলাফল পেতে পারেন, তাহলে আমি মনে করি এটি আমাদের জন্য ভালো জিনিস।
ডিপসিকের উত্থান মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনা কোম্পানিটির উত্থানকে মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পের জন্য ‘ওয়েক-আপ কল’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ডিপসিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের আবির্ভাব ওয়াল স্ট্রিটে আলোড়ন সৃষ্টি করার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর বিবিসি।
ডিপসিকের ধাক্কায় এনভিডিয়ার মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে আকস্মিক পতন ঘটেছে। যেখানে চিপ জায়ান্ট কোম্পানিটি তাদের বাজার মূল্য প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার (৪৮২ বিলিয়ন পাউন্ড) হারিয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পকে নাড়া দেয়া ডিপসিকের দাবি, তাদের আর১ মডেলটি অন্যান্য প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক কম খরচে তৈরি করা হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের এআই আধিপত্য এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বাধিক ডাউনলোড করা ফ্রি অ্যাপে পরিণত হয়েছে ডিপসিক। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছেন, চীনের এআই শিল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ইতিবাচক’ হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, যদি আপনি এটি সস্তায় করতে পারেন, যদি আপনি কম খরচে একই ফলাফল পেতে পারেন, তাহলে আমি মনে করি এটি আমাদের জন্য ভালো জিনিস। ট্রাম্প আরো বলেন, তিনি এই চীনা কোম্পানির অগ্রগতি নিয়ে চিন্তিত নন এবং যুক্তরাষ্ট্র এই খাতে অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হিসাবেই থাকবে।
মঙ্গলবার, অ্যাডভানটেস্ট, সফটব্যাংক এবং টোকিও ইলেকট্রনের মতো জাপানি এআই ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর তীব্রভাবে কমেছে। এছাড়া, নিক্কেই ২২৫ সূচককে প্রায় ১ শতাংশ নিচে নামিয়েছে ডিপসিকের উত্থান। চান্দ্র নববর্ষের ছুটিতে বন্ধ রয়েছে এশিয়ার বেশ কয়েকটি বাজার। চীনের আর্থিক বাজার আজ থেকে বন্ধ থাকবে এবং ৫ ফেব্রুয়ারি পুনরায় খুলবে। প্রধান চিপ উৎপাদনকারী দেশ তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্টক এক্সচেঞ্জগুলোও আজ বন্ধ রয়েছে। ওপেন সোর্স ডিপসিক-ভি৩ মডেল দ্বারা চালিত হচ্ছে ডিপসিক। অ্যাপটির গবেষকরা দাবি করেছেন, প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার (৪ দশমিক ২ মিলিয়ন পাউন্ড) খরচ করতে তৈরি করা হয়েছে এটি। যা প্রতিযোগীদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে এই দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন চীনে উন্নত চিপ প্রযুক্তি রফতানি সীমিত করছে তখনই আবির্ভাব ঘটল ডিপসিকের। আমদানিকৃত উন্নত চিপের স্থির সরবরাহ ছাড়াই নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে চীনা এআই ডেভেলপাররা একে অপরের সঙ্গে কাজ শেয়ার করেছেন এবং প্রযুক্তির নতুন পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। এর ফলে এমন এআই মডেল তৈরি হয়েছে যেগুলোতে আগের তুলনায় অনেক কম কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন। এর অর্থ হলো, এগুলোর খরচ আগের ধারণাকৃত খরচের তুলনায় অনেক কম, যা শিল্পটিকে একবারেই পাল্টে দিতে পারে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন