বিদেশে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

বিদেশে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

  • ২৬/০১/২০২৫

তবে জরুরি খাদ্য সহায়তা এবং ইসরায়েল ও মিশরের জন্য সামরিক তহবিল এই সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় সব বিদ্যমান বৈদেশিক সহায়তা স্থগিত করেছে এবং নতুন সহায়তা প্রদান বন্ধ করেছে। এ সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ মেমো কর্মকর্তাদের এবং বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন দূতাবাসগুলোতে পাঠানো হয়েছে। খবর বিবিসি’র। ফাঁস হওয়া মেমোটি সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর জারি করা হয়। ওই আদেশে বলা হয়েছে, তার প্রশাসনের বৈদেশিক নীতির কার্যকারিতা ও সামঞ্জস্য পর্যালোচনা না হওয়া পর্যন্ত ৯০ দিনের জন্য সব বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা স্থগিত থাকবে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রদানকারী দেশ হিসেবে ৬৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই স্থগিতাদেশ উন্নয়ন সহায়তা থেকে শুরু করে সামরিক সহায়তাসহ সব ধরনের অর্থায়নে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে জরুরি খাদ্য সহায়তা এবং ইসরায়েল ও মিশরের জন্য সামরিক তহবিল এই সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। বিবিসি ফাঁস হওয়া মেমোর বিষয়বস্তু নিশ্চিত করেছে। মেমোতে বলা হয়েছে, “যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন চুক্তি বা বিদ্যমান চুক্তির সম্প্রসারণ পর্যালোচনা ও অনুমোদন না দেওয়া হবে, ততক্ষণ নতুন কোনো অর্থায়ন দেওয়া যাবে না।” আরও বলা হয়েছে, পর্যালোচনার সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্ত অনুযায়ী অবিলম্বে কাজ বন্ধের নির্দেশ জারি করতে হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৮৫ দিনের মধ্যে সব ধরনের বৈদেশিক সহায়তার একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হলো, বিদেশে মার্কিন অর্থব্যয় তখনই করা উচিত যদি এ ব্য়য় যুক্তরাষ্ট্রকে “শক্তিশালী”, “নিরাপদ” এবং “সমৃদ্ধ” করে। পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, এই পদক্ষেপ বৈদেশিক সাহায্য কর্মসূচির ওপর “গভীর প্রভাব” ফেলতে পারে। তিনি বলেন, “যেমন, বিশ্বজুড়ে মানবিক মাইন অপসারণ কর্মসূচিগুলো হঠাৎ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। এটি খুবই বড় একটি ব্যাপার।”
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি)-এর প্রাক্তন মিশন পরিচালক ডেভ হার্ডেন বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত “অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ” এবং এটি বিশ্বব্যাপী মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত পানি, স্যানিটেশন এবং আশ্রয়সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর ওপর দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “এসব প্রকল্প বাস্তবায়নকারী অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা হয়তো সম্ভব হবে, তবে প্রকৃত সহায়তা কার্যক্রম থমকে যাবে।” হার্ডেন বলেন, “আমি যখন পশ্চিম তীর ও গাজার মিশন পরিচালক ছিলাম, তখন এমন অনেক স্থগিতাদেশের মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু সেগুলো নির্দিষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে সীমিত ছিল। তবে এবার এটি পুরো বিশ্বের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।”
“এই সিদ্ধান্ত শুধু সহায়তা স্থগিত নয়, বরং বিদ্যমান চুক্তিগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলছে। এমনকি যেসব চুক্তি ইতোমধ্যে অর্থায়নপ্রাপ্ত এবং কার্যকর, সেগুলোতেও কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এটি খুবই বিস্তৃত প্রভাব ফেলবে,” তিনি যোগ করেন।
এএফপি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে ইউক্রেনও প্রভাবিত হতে পারে। ইউক্রেন ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেনের প্রশাসনের অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা পেয়েছে।
মেমোতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও মিশরের জন্য বিদেশি সামরিক অর্থায়ন এবং জরুরি খাদ্য সহায়তা ছাড়ের আওতায় থাকবে। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর সেখানে মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা সংকটের সময় এই সিদ্ধান্ত এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে বিষয়ে বিবিসি মন্তব্য জানতে চেয়েছে।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us