ভারতের বাজারে গাড়ি বিক্রির গতি কমে গেছে সেই কোভিডের সময় থেকে। ২০২৪ সালে গাড়ি বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি আছে, যদিও সেটা তেমন একটা আশাব্যঞ্জক নয়। দেখা গেছে, পেট্রলচালিত গাড়ির চেয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রির প্রবৃদ্ধি বেশি। রবিবার (১৯ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারতের গাড়ি বিক্রেতাদের (পরিবেশক) সংগঠন ফাডা জানিয়েছে, ২০২৪ সালে প্রথাগত জ্বালানিনির্ভর যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রি বেড়েছে ৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। কিন্তু সেই বাজারে সেখানেই ইভি বা বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। গতকাল শনিবার নয়াদিল্লিতে গাড়ি মেলায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী বলেন, ভারতে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। ২০২৪ সালে ১৪ লাখের বেশি এই গাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা মোট গাড়ি বিক্রির ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এক বছর আগে যা ছিল, ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ মোট গাড়ি বিক্রির নিরিখে ইভি বিক্রি বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট।
ভারতের আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ি বলেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির অবকাঠামোর দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভারত গাড়ির বাজারে বিশ্বের শীর্ষস্থানে উঠে আসবে। এখন এই শিল্পের আকার বার্ষিক ২২ লাখ কোটি রুপি। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা চার গুণের বেশি বাড়বে। ফাডার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে ভারতে চার চাকার বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৮৩ হাজার; গত বছর হয়েছে ৯৯ হাজারের বেশি। মোট গাড়ি বিক্রির (প্রায় ৪০ লাখ ৭৪ হাজার) নিরিখে তা খুব বেশি নয়। কিন্তু বিষয়টি হলো, ইভি বিক্রির গতি বাড়ছে। ফাডার সর্বভারতীয় সভাপতি সি এস বিজ্ঞেশ্বর জানান, ক্রেতাদের পছন্দ বদলে যাচ্ছে। বিবিধ কারণে এখন আরও বেশি মানুষ ইভি কিনছে। গত বছরের বিক্রির তথ্য সেই প্রবণতা প্রমাণ করে। এ ছাড়া ২০২৪ সালে দুই চাকার ইভি বিক্রিও প্রায় ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১ দশমিক ৫ লাখের কাছাকাছি চলে গেছে। বাংলাদেশের বাজারেও পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হচ্ছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানাও দেশে তৈরি হচ্ছে। কিন্তু উচ্চ নিবন্ধন ফি ও আমদানি শুল্কের মতো প্রতিবন্ধকতার কারণে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার অতটা বিকশিত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন