বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের আসন্ন চীন সফরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আগামী ২০ জানুয়ারি চার দিনের সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন তারা। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য জোট রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) যোগ দেওয়ার ব্যাপারে চীনের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের এটাই হবে প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।
বাংলাদেশের উৎপাদনখাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশের উৎপাদনখাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের বাণিজ্য কনস্যুলেট সং ইয়াং। বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত ২৩তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, চলতি বছর চীন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী। গেল ৬০ বছরে চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিহাস নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বেল্ট এন্ড রোড সহযোগিতা আরও বাড়বে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের মেশিন ও এক্সেসরিজে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মেশিনারিজ চীন থেকে আমদানি করা প্রয়োজন হয়। এখানে যদি চীনা কোম্পানি বিনিয়োগ করে তাহলে তাদের আরও বেশি লাভ হবে। এজন্য বিকেএমইএ যত ধরনের সহযোগিতা করা প্রয়োজন সব ধরনের সহযোগিতা করবে। বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মেশিনারিজ চীন থেকে আমদানি করা প্রয়োজন হয়। এখানে যদি চীনা কোম্পানি বিনিয়োগ করে তাহলে তাদের আরও বেশি লাভ হবে। এজন্য বিকেএমইএ যত ধরনের সহযোগিতা করা প্রয়োজন সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তিনি আরও বলেন, নিটওয়ার সেক্টরে আশি শতাংশ বেশি ভ্যালু এডিশন হয়। বিগত সরকারের পলিসির কারণে এটা এখন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে চলে এসেছে। সামনে মনে হয় আরও নিচে নেমে আসবে। এর অন্যতম কারণ আমরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেতাম তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ সময় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) প্রশাসক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের দেশে ব্যবসার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের নতুন নতুন মেশিনারিজের সাথে পরিচয় হবে। এর ফলে আমাদের উৎপাদন সমৃদ্ধি হবে। চীনে আমাদের পোশাক রফতানি খুব কম। আমরা সে বাজার ধরার চেষ্টা করছি। এজন্য তাদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক তৈরি করতে হবে। সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, এবারের প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ এবং সিসিপিআইটি-টেক্স চায়নার যৌথ প্রচেষ্টার অষ্টম বর্ষ পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে । এই প্রদর্শনীগুলো বাংলাদেশে টেক্সটাইল শিল্পের অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। ২২ বছরের ধারাবাহিকতায় কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস (সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ) এবং সাব-কাউন্সিল অব টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি, চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি টেক্স চায়না) যৌথভাবে প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। CGTN
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন