ভারতের পুঁজিবাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। গত সপ্তাহে পরপর তিন সেশনে বৃদ্ধির জেরে বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু আবারও বিক্রির প্রবণতায় বাড়ল উদ্বেগ। সপ্তাহের শেষ দিন গত শুক্রবার বেঞ্চমার্ক সূচক সেনসেক্স কমল ৪২৩ পয়েন্ট, নিফটি রইল ২৩ হাজার ২৬০ পয়েন্টের নিচে। এছাড়া উইপ্রো, টেকএমের শেয়ারের দর কমল ২ শতাংশ। তবে ইন্ডিয়া ভিক্সের সূচক প্রায় ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ঊর্ধ্বগামী হয়েছিল। টানা তিন সেশনে ঊর্ধ্বগতির পর আবারও ধাক্কা খেল ভারতের পুঁজিবাজারের মূল সূচকগুলো। বেঞ্চমার্ক সূচকগুলো শুক্রবার চলে যায় রেডজোনে। এদিন বাজার বন্ধের সময় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স প্রায় শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ বা ৪২৩ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট কমে হয়েছে ৭৬ হাজার ৬১৯ দশমিক ৩৩। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি প্রায় শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ বা ১০৮ দশমিক ৬০ পয়েন্ট নিম্নগামী হয়েছিল ২৩ হাজার ২০৩ দশমিক ২০।
এদিন নিফটি মিডক্যাপ ১০০ এবং নিফটি স্মলক্যাপ ১০০-এর সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বগামী হয়েছিল। এদিন সেক্টরগুলোর মধ্যে নিফটি অটো, নিফটি আইটি, নিফটি পিএসইউ ব্যাংক, নিফটি ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস, নিফটি প্রাইভেট ব্যাংক এবং নিফটি সার্ভিস সেক্টরের সূচক নিম্নগামী হয়েছিল। এগুলো যথাক্রমে ১ দশমিক ৬০, শূন্য দশমিক ৩১, ২ দশমিক ৬৮, শূন্য দশমিক ২২, ১ দশমিক ৬৫, ২ দশমিক ১৭ এবং ১ দশমিক ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায় নিফটি ফার্মা, নিফটি এফএমসিজি, নিফটি মেটাল, নিফটি রিয়েলটি, নিফটি মিডিয়া, নিফটি এনার্জি, নিফটি ইনফ্রা, নিফটি কমোডিটিজ, নিফটি কনজাম্পশন, নিফটি পিএসই, নিফটি কনজিউমার ডিউরেবলস, নিফটি হেলথকেয়ার এবং নিফটি অয়েল অ্যান্ড গ্যাসের সূচক। এগুলো যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৬৯, ১ দশমিক ০২, ১ দশমিক ১৮, ১ দশমিক ৩২, শূন্য দশমিক ২২, ১ দশমিক ২০, ১ দশমিক ২০, ১ দশমিক ১০, শূন্য দশমিক ৪০, ১ দশমিক ৩৭, শূন্য দশমিক ৪২, শূন্য দশমিক ৪৩ এবং ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
এদিন লাভের নিরিখে শীর্ষে ছিল বিএলএস ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস, এনবিসিসি, গুজরাট স্টেট ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যালস, হিন্দুস্তান কপার, ভারত ডায়নামিকস, মনপ্পুরম ফিনান্স, আইডিবিআই ব্যাংক, অ্যালেম্বিক ফার্মাসিউটিক্যালস, এইচএএল, দ্য ফার্টিলাইজারস অ্যান্ড কেমিক্যালস ত্রাবাকোংর, আইআরবি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপারস, হাডকো এবং ম্যাক্রোটেক ডেভলপারসের শেয়ার। এদিন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে স্টালিং অ্যান্ড উইলসন রিনিউঅ্যাবল এনার্জি, কল্যান জুয়েলার্স ইন্ডিয়া, ইনফোসিস, পিবি ফিনটেক, নেটওয়েব টেকনোলজিস ইন্ডিয়া, অ্যাক্সিস ব্যাক, বিজয়া ডায়গনস্টিক সেন্টার, শ্রীরাম ফিনান্স, পিটিসি ইন্ডাস্ট্রিজ, গ্রেট ইস্টার্ন শিপিং কোম্পানি এবং এজিস লজিস্টিকসের শেয়ারে।
এদিন বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন ১ দশমিক ০৮ লাখ কোটি রুপি হ্রাস পেয়ে হয়েছে ৪২৮ দশমিক ৭২ লাখ কোটি রুপি। সম্প্রতি ভারতের পুঁজিবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৪ হাজার ৩৪১ কোটি রুপির ইকুইটি শেয়ার বিক্রি করেছেন। অর্থাৎ দেশটির পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণে বিদেশি মুদ্রা বেরিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প নানা রকম বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবেন। মূলত চীনকে লক্ষ্য করে তিনি এসব করবেন, কিন্তু তাতে ভারতেরও অসুবিধা হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ভারতের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়েছে। এই প্রবণতা একেবারে হঠাৎ করে ২০২৫ সালেই যে দেখা যাচ্ছে, তা নয়। গত বছরের শুরু থেকেই ভারতের পুঁজিবাজার থেকে বিদেশি পুঁজি সরে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যদিও প্রায় প্রতি সপ্তাহেই সূচক নতুন রেকর্ড উচ্চতায় উঠছে। পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগকারীরা ২ হাজার ৯২৮ রুপির শেয়ার ক্রয় করেছেন।
খবর: দ্য ইকোনমিক টাইমস।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন