এআই ব্র্যাড পিটের কাছে ৮৫০,০০০ ডলার প্রতারণার শিকার ফরাসি নারী – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন

এআই ব্র্যাড পিটের কাছে ৮৫০,০০০ ডলার প্রতারণার শিকার ফরাসি নারী

  • ১৬/০১/২০২৫

অভিনেতা ব্র্যাড পিটের এআই জেনারেটেড এবং ডিপফেইক ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে এক ফরাসি নারীর কাছে থেকে ৮৫০,০০০ ডলার হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা।
অভিনেতা ব্রেড পিটের পরিচয় দেওয়া প্রতারকদের কাছে ৮ লাখ ৩০ হাজার ইউরো (৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার) প্রতারণার শিকার হওয়া এক ফরাসি নারী সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ব্যাপক বিদ্রুপের মুখোমুখি হওয়ায়, ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল টিএফ১ তাকে নিয়ে সম্প্রচার করা অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে। খবর বিবিসি’র। রোববার সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানটিতে ৫৩ বছর বয়সী ইন্টেরিওর ডিজাইনার অ্যান জাতীয় মনোযোগ আকর্ষণ করেন। তিনি এক বছর ও ছয় মাস সময় ধরে মনে করেছিলেন, তার সঙ্গে ব্র্যাড পিটের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি একটি জনপ্রিয় ইউটিউব শোতে বলেছিলেন, তিনি “পাগল বা নির্বোধ নন।” তিনি বলেন, “আমি শুধু ঠকেছি, এটা আমি মেনে নিচ্ছি। আর এজন্যই আমি সামনে এসেছি, কারণ আমিই একমাত্র নই।”
ব্র্যাড পিটের একজন প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের ‘এন্টারটেইনমেন্ট উইকলি’কে বলেন, “এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় যে প্রতারকরা ভক্তদের সেলিব্রেটিদের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের সুযোগ নেয়।” তিনি আরও বলেন, মানুষের অনুরোধ ছাড়া অনলাইন যোগাযোগে সাড়া দেওয়া উচিত নয়, “বিশেষত এমন অভিনেতাদের কাছ থেকে যার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি নেই।”
অ্যান তার জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে এবং তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি হাস্যকরভাবে উপহাসের শিকার হয়েছেন। নেটফ্লিক্স ফ্রান্স এক্স-এ এক পোস্টে “ব্র্যাড পিটের সঙ্গে ৪টি সিনেমা (সত্যিই)” লিখে সেটি প্রচার করে। টুলুজ এফসি এক পোস্টে লিখেছিল, “হাই অ্যান, ব্র্যাড আমাদের বলেছে, সে বুধবার স্টেডিয়ামে থাকবে… আর তুমি?” যদিও পরবর্তীতে ক্লাবটি পোস্টটি মুছে ফেলেছে এবং ক্ষমা চেয়েছে। টিএফ১ জানায়, এ্যানের সাক্ষাৎকারের পরপরই “হ্যারাসমেন্টের (হেনস্তা) ঢেউ” সৃষ্টি হওয়ায় তারা সেই অনুষ্ঠান সরিয়ে নিয়েছে। তবে এটি অনলাইনে এখনও পাওয়া যাচ্ছে। অ্যান জানান, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইনস্টাগ্রাম ডাউনলোড করার পর তাকে ব্র্যাড পিটের মায়ের পরিচয়ে এক ব্যক্তি প্রথমে যোগাযোগ করেন এবং বলেন, পিট তার মত এক নারী চান। পরদিন, “ব্র্যাড পিট” নামে আরেক ব্যক্তি যোগাযোগ করলে তার সন্দেহ শুরু হয়। কিন্তু তিনি জানতেন না, তিনি এক বড় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। নকল ব্র্যাড পিট তার কাছে দাবি করে, তিনি তার (অ্যান) জন্য বিলাসবহুল উপহার পাঠাতে চেয়েছিলেন। তবে, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে ডিভোর্স প্রক্রিয়া চলার কারণে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গেছে। ফলে, অ্যান প্রতারকদের কাছে ৯ হাজার ইউরো পাঠান। এরপর, দাবিটি আরো তীব্র হয় যখন “ব্র্যাড পিট” তাকে জানায়, তার কিডনি ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য অর্থ প্রয়োজন এবং একাধিক এআই-জেনারেটেড ছবি পাঠায়। অ্যান ভাবত, এটি শুধু তার জন্য তোলা ছবি। এ্যানের স্বামীও ডিভোর্সের পর তাকে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো দেন, যার পুরোটা চলে যায় প্রতারকদের কাছে। অ্যান জানান, “আমি নিজেকে বলেছিলাম, হয়ত আমি এক মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছি।” তিনি নিজেই ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ্যানের ২২ বছর বয়সী মেয়ে টিএফ১-কে জানিয়েছে, সে এক বছর ধরে মাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মা খুব উত্তেজিত ছিলেন। তিনি বলেন, “এটা দেখলে খুব কষ্ট হতো। মাকে এত সরল হতে দেখা।”
যখন গসিপ ম্যাগাজিনে প্রকৃত ব্র্যাড পিট ও ইনেস ডে র‍্যামনের ছবি প্রকাশিত হয়, তখন তার সন্দেহ বাড়ে। তখন প্রতারকরা তাকে ডিপফেইক এর মাধ্যমে একটি জাল খবরের ভিডিও পাঠায়, যেখানে এআই-জেনারেটেড উপস্থাপক এ্যানের সাথে ব্র্যাড পিটের “বিশেষ সম্পর্ক” থাকার কথা ঘোষণা করে। তবে, ২০২৪ সালের জুনে প্রকৃত ব্র্যাড পিট ও ইনেস ডে র‍্যামনের সম্পর্কের ঘোষণা আসার পর, অ্যান সব কিছু শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। তারপর যখন প্রতারকরা “বিশেষ এফবিআই এজেন্ট জন স্মিথ” হিসেবে আরও টাকা দাবি করে, অ্যান পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। এই নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। টিএফ১ জানিয়েছে, এই ঘটনাগুলোর ফলে অ্যান আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। অ্যান বলেছেন, “আমি কেন এমনভাবে আঘাত পেলাম? এই মানুষদের নরকে যেতে হবে। আমাদের তাদের খুঁজে বের করতে হবে, আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি– দয়া করে তাদের খুঁজে বের করতে সাহায্য করুন।”
তবে মঙ্গলবার ইউটিউব সাক্ষাৎকারে অ্যান টিফি১-কে দায়ী করে বলেন, তারা তার বার বার সন্দেহ করার বিষয়টি আড়াল করেছে। তিনি বলেন, “যদি আপনি এমন কথা শুনেন যা আপনার স্বামীও কখনো বলেননি, আপনি কেন বিশ্বাস করবেন না?”
অ্যান এখন একজন বন্ধুর সঙ্গে থাকছেন এবং বলেন, “আমার পুরো জীবন এখন একটা ছোট রুমে কিছু বাক্সের মধ্যে আবদ্ধ। আমার এখন এই ছাড়া কিছুই আর নেই।”
অনেক অনলাইন ব্যবহারকারী এ্যানকে নিয়ে কৌতুক করলেও, বেশ কিছু ব্যক্তি তার পক্ষ নেন। একজন এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, “কৌতুকের দিকটি আমি বুঝি। তবে আমরা এখানে একজন ৫০ বছর বয়সী নারী সম্পর্কে কথা বলছি, যাকে ডীপফেকস ও এআই দিয়ে ঠকানো হয়েছে। আপনার বাবা-মা বা দাদী-দাদীরা এটা ধরতে পারতেন না।” লিবারেশন পত্রিকায় প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, “অ্যান একজন হুইসেলব্লোয়ার [গোপন তথ্য ফাঁসকারী]। আজকের জীবনে সাইবার ফাঁদে পরা খুব সাধারণ ব্যাপার এবং এআইয়ের উন্নতি এই পরিস্থিতি আরও খারাপ করবে।”

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us