একটি অঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে গত রোববার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গিয়েছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক। সিরিয়ার অন্তর্র্বতী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শিবানিও সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। আনালেনা বেয়ারবক মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিরিয়ার দ্রুত সহযোগিতা প্রয়োজন।
সম্মেলনের আগে বেয়ারবক সাংবাদিকদের বলেন, সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত আসাদের মিত্রেদের, যারা মারাত্বক অপরাধ করেছে, তাদেরওিপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।তিনি বলেন, ক্ষমতার এই পালাবদলের সময়ে সিরিয়ার দ্রুত অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন এবং সিরিয়ায় যাদের কিছুই নেই তাদেরকে আমরা সহযোগিতা চালিয়ে যাব যেমনটা আমরা পুরো গৃহযুদ্ধের সময়ে করেছ। আমরা খাদ্য, জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র, এবং স্বাস্থ্যসেবার জন্য আরো ৫০ মিলিয়ন ইউরোর দেব।
তার আগে দামেস্ক সফরের সময় বেয়ারবক বলেন, সিরিয়ার ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে দেশটিতে একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হচ্ছে কি না তার ওপর’। উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি দ্য ফাইনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয় সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ইইউকে আহ্বান জানাচ্ছে জার্মানি। এদিকে জার্মানির বিরোধী দল খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল সিডিইউ-এর নেতা ইয়েন্স স্পান বলেন, জার্মানিতে বাস করা যে সিরীয়রা জার্মান সমাজের অংশ হতে পেরেছেন তাদের জার্মানিতে থাকার আমন্ত্রণ জানানো উচিত। আর যে সিরীয়দের আমাদের দেয়া নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই তাদের চলে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, যারা আসলে ইন্টিগ্রেটেড হয়েছেন, যারা তাদের ও পরিবারের খরচ মেটাতে পারেন, যারা ভাষাটা বলেন, আর যারা আমাদের জার্মান সমাজের অংশ, তাদের থাকার আমন্ত্রণ পাওয়া উচিত।
জার্মানিতে আগামী মাসে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তার আগে সিডিইউ দলের অভিবাসন নীতি নিয়ে ডিডব্লিউর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। যে সিরীয়রা স্বেচ্ছায় সিরিয়া ফিরে যেতে আগ্রহী তাদের এক হাজার ইউরো করে দেয়ার প্রস্তাব করেছেন স্পান। সাক্ষাৎকারের সময় তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যারা সিরিয়া ফিরে যেতে চান তাদের দেশ পুনর্গঠনের কাজে সহায়তা করতে চায় সিডিইউ।
সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর সিরীয়দের কাছ থেকে নতুন করে আশ্রয় আবেদন নেয়ার বিষয়টি স্থগিতেরও পরামর্শ দেন স্পান। জার্মানির বর্তমান সরকারেরও একই ইচ্ছা।
খবর: ডয়চে ভেলে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন