যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের (ন্যাটো) সদস্য দেশগুলোর চাঁদার হার বাড়াতে চান যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চাঁদা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি এসব দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ ন্যাটোর পেছনে ব্যয় করার পরামর্শ দিয়েছেন। খবর: সিএনবিসি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকাল এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তারা (ন্যাটোভুক্ত দেশ) সবাই চাঁদা দিতে সক্ষম। তাদের উচিত ২ শতাংশ চাঁদা না দিয়ে ৫ শতাংশ দেয়া। বর্তমানে ৩২টি দেশ ন্যাটোর সদস্য। ২০২৩ সালে জোটের সদস্যরা জিডিপির দুই শতাংশ করে বার্ষিক চাঁদা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের পর জোটের ব্যয় অনেক ব্যয় বেড়ে গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প চাঁদা নিয়ে এ মন্তব্য করলেন। তিনি বলেন, আমি আপনাদের গ্যারান্টি দিচ্ছে, আমি যদি তখন প্রেসিডেন্ট থাকতাম তাহলে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ হতো না। কখনোই যুদ্ধ শুরু হতো না। তবে ন্যাটোর চাঁদার হার বাড়ানোর কথা শুধু ট্রাম্পই বলেননি। গত মাসে ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটেও চাঁদার হার বাড়ানোর কথা বলেছিলেন।
চাঁদা নিয়ে সরব ট্রাম্প। গত বছর তিনি বলেছিলেন, কোনো সদস্য চাঁদা দিতে ব্যর্থ হলে সেই দেশে হামলা চালাতে রাশিয়াকে ‘উৎসাহিত’ করা হবে। পশ্চিমা এই সামরিক জোটের নীতিমালা অনুযায়ী, জোটভুক্ত কোনো দেশ হামলার শিকার হলে, তাকে রক্ষায় অন্য সদস্যরা এগিয়ে আসবে। তাই ট্রাম্পের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও মার্কিন অর্থনীতিকে বিপন্ন করছে বলে মন্তব্য করেন হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র।
চলতি বছরের প্রথম দিন সংলাপ, বিতর্ক ও স্বাধীন নীতি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাটাম হাউস জানায়, মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন ও সুদানের ক্রমবর্ধমান সংঘাত অন্যান্য অঞ্চলে প্রভাব ফেলবে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ (বিশেষত ইউক্রেনকে নিয়ে) ঐক্যে প্রভাব ফেলবে। তারা আরও জানায়, ইইউ থাকবে নিজেদের সংস্কার ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চাপে। যুক্তরাজ্য ন্যাটোর মধ্যে বড় ভূমিকা রাখতে এবং ইইউয়ের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে কাজ করছে। ইইউ ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষা কৌশল পর্যালোচনা করবে। ইউকে-ইইউ প্রতিরক্ষা চুক্তি হতে পারে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন