গ্রিনল্যান্ড পানামা খালের পর এবার কানাডার নিয়ন্ত্রণ নিতে ট্রাম্পের হুমকি – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন

গ্রিনল্যান্ড পানামা খালের পর এবার কানাডার নিয়ন্ত্রণ নিতে ট্রাম্পের হুমকি

  • ০৮/০১/২০২৫

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সীমান্তটি দুই দেশের মধ্যে থাকা দীর্ঘতম সীমান্ত, যা ১৭০০ সালের শেষ দিকের বিভিন্ন চুক্তি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই সীমান্তকে ‘কৃত্রিমভাবে টানা রেখা’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প। তিনি কানাডা দখল করার চেষ্টা করবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড এবং পানামা খাল অধিগ্রহণের ইচ্ছায় কোনোভাবেই থেমে নেই। তিনি আবারো এই দুটি স্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। সঙ্গে কানাডাকেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য বানানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। ফ্লোরিডায় তার মার-এ-লাগো এস্টেটে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। খবর বিবিসি।
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড বা পানামা খাল দখল করতে সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, না, আমি এই দুটি বিষয়ে আপনাদের কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারি না। কিন্তু আমি এটুকু বলতে পারি, গ্রিনল্যান্ড ও পানামা খাল আমাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন।
ডেনমার্ক ও পানামা উভয়ই অবশ্য তাদের ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সীমান্তটি দুই দেশের মধ্যে থাকা দীর্ঘতম সীমান্ত, যা ১৭০০ সালের শেষ দিকের বিভিন্ন চুক্তি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই সীমান্তকে ‘কৃত্রিমভাবে টানা রেখা’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প। তিনি কানাডা দখল করার চেষ্টা করবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করবেন। প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার সুরক্ষায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। তিনি কানাডার গাড়ি, কাঠ এবং দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাজ্য হওয়া উচিত কানাডার। তবে ট্রাম্পের এসব দাবির প্রসঙ্গে কানাডার বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, দুই দেশের একীভূত হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকার উপসাগর’ রাখার প্রস্তাব দেন এবং আবারো বায়ুশক্তির বিরোধিতা করে বলেন, বায়ুশক্তির টারবাইনগুলো তিমিদের পাগল করে দিচ্ছে।
ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্যের মধ্যেই তার পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র গ্রিনল্যান্ড সফর করছিলেন। গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ পৌঁছানোর আগে ট্রাম্প জুনিয়র বলেছিলেন, এটি তার ব্যক্তিগত ভ্রমণ। সেখানে তার কোনো সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা নেই। পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার মার্কিন ভূখণ্ড সম্প্রসারণের ধারণা ব্যক্ত করে চলেছেন— যার মধ্যে পানামা খাল ফিরে পাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, খালটি তার দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দাবি করেন, এই খাল পরিচালনা করছে চীন। এর আগে তিনি পানামার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন যে, তারা মার্কিন জাহাজগুলোকে খাল ব্যবহারের জন্য অত্যধিক চার্জ করছে। পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো ট্রাম্পের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে, খালে চীনের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
১৯০০ সালের শুরুর দিকে নির্মিত হয়েছিল পানামা খাল এবং ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের আলোচিত চুক্তি অনুযায়ী এটি ধীরে ধীরে পানামাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us