কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান চাহিদা ক্লাউড পরিষেবা খাতের ব্যয়কে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। চলতি বছর বিশ্বব্যাপী পাবলিক ক্লাউড পরিষেবায় ব্যয় ছাড়াবে ৭২ হাজার কোটি ডলার। অর্থের এ অংক গত বছরের চেয়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। কানেকটিকাটভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। খবর টেকরাডার।
গার্টনারের গবেষণা বলছে, ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিসেসে (এসএএএস) ব্যয় চলতি বছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে, যা ২০২৪ সালে ছিল ২৫ হাজার কোটি ডলার। একই সঙ্গে ক্লাউড সিস্টেম ইনফ্রাস্ট্রাকচার সার্ভিসেসে (আইএএএস) খরচ ২০২৫ সালের মধ্যে ছাড়াবে ২১ হাজার কোটি ডলার। তবে ডেস্কটপে সার্ভিস (ডিএএএস), যা একসময় একটি দ্রুত প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হতো, এটি ২০২৫ সালে মোট ক্লাউড সেবা বাজারে সামান্যই অবদান রাখবে। এর ব্যবহার এখনো ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি এবং ক্লাউড বাজারে এর অংশ নগণ্য।
ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিসেস (যেমন জিমেইল, মাইক্রোসফট অফিস) অনলাইনে হোস্ট করা হয় এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাকসেস করা যায়। ব্যবহারকারীদের এসব অ্যাপ্লিকেশন কম্পিউটারে ইনস্টল করার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে ক্লাউড সিস্টেম ইনফ্রাস্ট্রাকচার সার্ভিসেসের (যেমন অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস) মাধ্যমে কোম্পানিগুলোকে ফিজিক্যাল কম্পিউটার ও সার্ভার পরিচালনা করতে হয় না। একইভাবে ডেস্কটপ অ্যাজ-আ-সার্ভিসের মাধ্যমে ব্যক্তি ভার্চুয়াল পরিবেশে ডেস্কটপ পরিচালনা করতে পারেন, ফলে ফিজিক্যাল কম্পিউটারে প্রয়োজন হয় না।
যদিও বিশ্বব্যাপী ক্লাউড অবকাঠামো খাতের জন্য খুব একটা অনুকূলে ছিল না ২০২৩ সাল। তবে গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আয়ের হিসাব বলছে, হতাশাজনক এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠছে খাতটি। এর পেছনের কারণ হিসেবে মুখ্য ভূমিকায় আছে প্রযুক্তি দুনিয়ায় এআই আগ্রহ বেড়ে যাওয়া। ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে ক্লাউড অবকাঠামো খাতে ব্যয় বাড়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ। বাজার গবেষণা সংস্থা আইডিসির প্রতিবেদন অনুসারে, ক্লাউড অবকাঠামোয় ব্যয় ওই সময় নন-ক্লাউড সেগমেন্টকে ছাড়িয়ে যায়। পাবলিক ক্লাউড অবকাঠামোয় ব্যয় বাড়ে প্রায় ৪৪ শতাংশ, যেখানে প্রাইভেট ক্লাউড অবকাঠামোয় ব্যয় বেড়েছিল ১৫ শতাংশের বেশি।
গার্টনার বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান হাইব্রিড ক্লাউড ব্যবহার করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা পাবলিক ও প্রাইভেট ক্লাউড সেবার একটি মিশ্রণ। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য সংরক্ষণ ও অ্যাপ্লিকেশন চালানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারে।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, ক্লাউড অবকাঠামোর বাজার এখন এত বড় যে এটি দ্রুত পরিবর্তন করা কঠিন। তবে যেহেতু ব্যবহারকারী সহজেই সার্ভার, স্টোরেজ ও নেটওয়ার্কিং সক্ষমতা চালু বা বন্ধ করতে পারে, তাই বিশ্বব্যাপী ক্লাউড পরিষেবায় ঠিক কত টাকা ব্যয় হবে, তা অনুমান করা সহজ নয়।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিস গত নভেম্বরে ক্লাউড অবকাঠামো খাতের শীর্ষ তিনটি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস), মাইক্রোসফট অ্যাজুর ও গুগল ক্লাউড। ক্যানালিস বলছে, গত বছর এসব কোম্পানি ক্লাউডের বাজারে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মোট ক্লাউড ব্যয়ের ৬৪ শতাংশই ছিল এ তিন কোম্পানির দখলে।
সংস্থাটির বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও নতুন উদ্ভাবনের কারণে ক্লাউড পরিষেবা খাতের আওতা বেড়ে চলেছে। এছাড়া এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে উচ্চ কার্যক্ষমতার কম্পিউটিং ও স্টোরেজের চাহিদা বাড়ছে। ফলে পরবর্তী প্রজন্মের এআই অবকাঠামোয় বড় পরিমাণে বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে শীর্ষ ক্লাউড কোম্পানিগুলোর।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন