২০২৪ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বা নিখোঁজ হয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক রেজিনা ডি ডোমিনিসিস এ তথ্য জানিয়েছেন। নিজ দেশে যুদ্ধ বা দরিদ্রতার কারণে এসব ব্যক্তি নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের খোঁজে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে নতুন গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। ভূমধ্যসাগর বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক অভিবাসন রুটগুলোর মধ্যে অন্যতম। জনাকীর্ণ নৌযানে উত্তাল সমুদ্র পার হওয়ার চেষ্টা ও অপর্যাপ্ত উদ্ধার অভিযানের কারণে প্রায়ই মৃত্যুর সংবাদ গণমাধ্যমে উঠে আসে।
নববর্ষের আগের রাতে সাগরে পড়ে ২০ জন নিখোঁজ হয়। লিবিয়া উপকূল থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে উত্তাল সমুদ্রে তাদের নৌযান ডুবতে শুরু করে। উত্তাল ঢেউ সত্ত্বেও আট বছর বয়সী এক সিরীয় শিশুসহ সাতজন ডুবতে থাকা নৌযানে তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখে। গত মঙ্গলবার রাতে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসার কাছ থেকে তাদের উদ্ধার করে ইতালীয় পুলিশের একটি টহল নৌকা।
বেঁচে যাওয়া ছয় প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যক্ষদর্শী অনুসারে, ছয় মিটার লম্বা নৌযানটি গত সোমবার রাত ১০টায় লিবিয়ার জুওয়ারা ত্যাগ করে। প্রায় ৫ ঘণ্টা পর এটি ডুবতে শুরু করলে আতঙ্কিত হয়ে ২০ যাত্রী সাগরে পড়ে যায়। অন্য এক ঘটনায় সোমবার ইউরোপে পাড়ি জমানোর সময় তিউনিসিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি নৌযান বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এতে পাঁচ বছরের শিশুসহ দুজন মারা যায় এবং প্রাণে বেঁচে যায় অন্তত ১৭ জন।
ডি ডোমিনিসিস বলেন, ‘২০২৪ সালে ভূমধ্যসাগরে ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছে বা নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে কেবল মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটেই প্রায় ১ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি পাঁচজনে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভূমধ্যসাগর হয়ে পাড়ি জমানো অভিবাসীদের অধিকাংশই নিজ দেশের সহিংস সংঘাত ও দরিদ্রতা থেকে পালানোর চেষ্টা করেছে।’
গত ডিসেম্বরে ভূমধ্যসাগরের দ্বীপ ল্যাম্পেদুসার কাছে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় দেখা যায়, তার পরনে ছিল একটি লাইফ ভেস্ট এবং সে দুটি টায়ারের টিউবের সাহায্যে ভাসছিল। সে উদ্ধারকারীদের বলেছিল, নৌকাডুবির ঘটনায় তাকে তিনদিন সাগরে থাকতে হয়েছে। ধারণা করা হয়েছে, ওই নৌকাডুবিতে ৪০ জনের প্রাণহানি হয়েছে।
ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা মানুষের জন্য ইতালি অন্যতম প্রধান অবতরণ পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত। মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটটি বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক রুটগুলোর মধ্যে একটি। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ২০১৪ সাল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার সময় অন্তত ২৫ হাজার ৫০০ জন নিহত ও নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। বেশির ভাগ মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে তিউনিসিয়া বা লিবিয়া থেকে ছেড়ে আসা নৌযানে।
অভিবাসীবাহী নৌযানগুলো যাতে সমুদ্রে পাড়ি জমাতে না পারে, সেজন্য ইতালি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তিউনিসিয়া ও লিবিয়ার সঙ্গে চুক্তি করলেও তারা বিপজ্জনক যাত্রার ঝুঁকি নিয়েই চলেছে। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে ৬৬ হাজার ৩১৭ জন ইতালিতে প্রবেশ করেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। জর্জিয়া মেলোনির সরকারের কঠোর নীতির কারণে এ সংখ্যা কমে এসেছে। (খবরঃ দ্য গার্ডিয়ান)।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন