ইউএস স্টিল কেনার জন্য নিপ্পন স্টিলের ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাধাগ্রস্থ করেছেন। চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট। সূত্রসমূহ বলছে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি ব্যবস্থা নেবে নিপ্পন স্টিল। বাইডেন শুক্রবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছেন যে দুই কোম্পানির উচিৎ হবে ৩০ দিনের মধ্যে পরিকল্পিত অধিগ্রহণ বাদ দেয়া। তিনি বলছেন এরকম বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে যে নিপ্পন স্টিল এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে যা ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে। ক্তরাষ্ট্রের বিদেশী বিনিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি পরিকল্পিত ক্রয়ের জাতীয় নিরাপত্তার উপর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করে দেখার পর একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে সেটা পাঠায়। দুই ইস্পাত নির্মাতা একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছে যে বাইডেনের সিদ্ধান্ত তাদের হতাশ করেছে। তারা বলেছে যে বাইডেনের আদেশ যথাযথ প্রক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশী বিনিয়োগ সংক্রান্ত কমিটির পরিচালনা আইন লঙ্ঘন করেছে। তারা আরও বলেছে যে মার্কিন সরকার জাপানের মত একটি মিত্র দেশের সাথে যে এরকম আচরণ করবে, সেটা বুঝতে পারা হচ্ছে মর্মান্তিক ও গভীর উদ্বেগজনক। ইস্পাত নির্মাতারা আরও বলছে যে যুক্তরাষ্ট্রে যথেষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ বজায় রাখা মিত্র একটি দেশ ভিত্তিক যে কোনো কোম্পানির কাছে ওয়াশিংটন শীতল একটি বার্তা পাঠাচ্ছে। ইউএস স্টিলের প্রেসিডেন্ট ও মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড বারিট বাইডেনের পদক্ষেপকে “লজ্জাজনক এবং দুর্নীতিগ্রস্ত” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা মিত্র জাপানকে অপমান করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। তবে শ্রমিক সংগঠন জোট ইউনাইটেড স্টিলওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতা ডেভিড ম্যাককল এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ইউনিয়নের সদস্য ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এটা যে সঠিক পদক্ষেপ, ইউনিয়নের তাতে কোনো সন্দেহ নেই। চুক্তিটি বাস্তবায়িত না হলে নিপ্পন স্টিলকে চুক্তি বাতিলের মূল্য পরিষোধ বা ব্রেক আপ ফি বাবদ ইউএস স্টিলকে ৫৬৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হতে পারে। একই সাথে চাহিদা স্থিতিশীল থাকবে বলে প্রত্যাশা দেখা দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজেদের কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করে নিতে কোম্পানি বাধ্য হবে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন