মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের চিঠিতে জানিয়েছে যে, চীন-ভিত্তিক এই হ্যাকার তৃতীয় পক্ষের একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মূল চাবি ব্যবহার করে নিরাপত্তা সিস্টেমে প্রবেশ করেছে। কর্মকর্তারা জানান, বেয়ন্ডট্রাস্ট নামের এই তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারা আরো জানান, হ্যাকার অর্থ মন্ত্রণালয়ের নথিগুলোতে এখনো প্রবেশ করতে পারছেন বলে কোনো প্রমাণ নেই।
চীনা রাষ্ট্র সমর্থিত হ্যাকার গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিস্টেমে প্রবেশ করে কর্মচারীদের ওয়ার্কস্টেশন এবং কিছু অশ্রেণিবদ্ধ নথি পর্যন্ত পৌঁছেছে। গতকাল সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) আমেরিকান কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা একটি চিঠির মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনা হয়। চিঠিটি মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আইনপ্রণেতাদের জানাতে লিখেছিল।
মার্কিন এজেন্সি এই হ্যাকিংকে একটি ‘বড় ধরনের ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তারা এফবিআই ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে এর তদন্তে কাজ করছে। ওয়াশিংটন ডিসির চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বিবিসি নিউজকে বলেছেন, কোনো প্রমাণ ছাড়াই কুৎসা রটাতে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের চিঠিতে জানিয়েছে যে, চীন-ভিত্তিক এই হ্যাকার তৃতীয় পক্ষের একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মূল চাবি ব্যবহার করে নিরাপত্তা সিস্টেমে প্রবেশ করেছে। কর্মকর্তারা জানান, বেয়ন্ডট্রাস্ট নামের এই তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারা আরো জানান, হ্যাকার অর্থ মন্ত্রণালয়ের নথিগুলোতে এখনো প্রবেশ করতে পারছেন বলে কোনো প্রমাণ নেই।
এফবিআইসহ এই বিভাগ সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা এবং তৃতীয় পক্ষের ফরেনসিক তদন্তকারীদের সঙ্গে মিলে হ্যাকিংয়ের সামগ্রিক প্রভাব নির্ধারণে কাজ করছে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা বলছেন, হ্যাকিংয়ের এই ঘটনা চীন-ভিত্তিক অ্যাডভান্সড পারসিস্টেন্ট থ্রেট (এপিটি) অ্যাক্টর দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।
বেয়ন্ডট্রাস্টের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানান, ৮ ডিসেম্বর ট্রেজারি বিভাগ এই হ্যাক সম্পর্কে জানতে পারে। কোম্পানির মতে, ২ ডিসেম্বর সন্দেহজনক কার্যকলাপ প্রথম ধরা পড়ে, তবে কোম্পানি তিন দিন পর নিশ্চিত করে যে তাদের হ্যাক করা হয়েছে। হ্যাকাররা বেশ কয়েকটি ট্রেজারি ব্যবহারকারীর ওয়ার্কস্টেশন এবং সেগুলোর সঙ্গে থাকা নির্দিষ্ট অশ্রেণিবদ্ধ নথিতে প্রবেশ করতে পেরেছে।
তবে হ্যাক করা ফাইলগুলোর প্রকৃতি, কখন এবং কতদিন ধরে হ্যাকিং হয়েছিল তা নির্দিষ্ট করা যায়নি এখনো। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার সিস্টেমের গোপনীয়তার স্তরও নির্দিষ্ট করা হয়নি। যেমন— নিম্নস্তরের ১০০ জন কর্মচারীর নথি তুলনামূলক কম মূল্যবান হতে পারে। অন্যদিকে, উচ্চ পর্যায়ের ১০ জন কর্মচারীর কম্পিউটারের নথি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এই তিন দিনে হ্যাকাররা বেয়ন্ডট্রাস্টের নজরে ছিল। এসময়ে তারা নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি বা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করেও থাকতে পারে। গোয়েন্দাদের মতে, হ্যাকাররা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থ চুরি তাদের উদ্দেশ্যে ছিল না। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ঘটনার বিষয়ে একটি পরিপূরক প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে আইনপ্রণেতাদের কাছে সরবরাহ করা হবে। (খবরঃ বিবিসি)।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন