বছরের শেষ দিন আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে এ নিয়ে টানা দুই বছর বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী থাকল। মূলত তেলের মূল ভোক্তাদেশগুলোর চাহিদা কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭৪ দশমিক ৪৬ ডলারে নেমে এসেছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭১ দশমিক ৪৮ ডলারে নেমে এসেছে। তবে সামগ্রিকভাবে চলতি বছর ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই ফিউচার্সের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।
এদিকে ডিসেম্বরে এ নিয়ে টানা তিন মাস চীনের উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ হয়েছে, যদিও তার গতি বেশ কম। সরকারি জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, অর্থনীতি চাঙা করতে চীন সরকার যে প্রণোদনা দিচ্ছে, তাতে কাজ হচ্ছে।
চীন সরকার ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ বা ৪১১ বিলিয়ন বা ৪১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের ট্রেজারি বন্ড ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এতে চীনের অর্থনীতির পালে আরও হাওয়া লাগবে। সংবাদে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা তেমন একটা বাড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর ফলে তেলের দাম নিম্নমুখী। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুত কমছে; গত সপ্তাহেও মজুত কমেছে ৩ মিলিয়ন ব্যারেল বা ৩০ লাখ ব্যারেল।
বছরের শেষ দিনে আজ মূল্যবৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০ ডিসেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুত হ্রাসের হার ছিল ধারণার চেয়েও বেশি। ছুটির মৌসুমে মানুষের চলাফেরা বেড়ে যাওয়ায় তেলের চাহিদা বেড়েছে, সে কারণে দাম বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালে জ্বালানি তেলের দাম তেমন একটা বাড়বে না বলে মনে করে মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগ্যান। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আগামী বছর আরও কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে তারা। প্রতিবেদনে তারা বলেছে, আগামী বছর তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলারে নেমে আসতে পারে।
জেপি মরগ্যান মনে করছে, আগামী এক বছরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করতে পারে। প্রতিবেদনে জ্বালানি তেলের বাজারে বিদ্যমান অস্থিরতার জন্য পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে দায়ী করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, এই উত্তেজনা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তারা এই পরিস্থিতির রাশ টেনে ধরার চেষ্টা করবে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন