বিশ্বব্যাপী ৭৮ শতাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একক ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারীর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
বিশ্বব্যাপী ৭৮ শতাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একক ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারীর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। ক্লাউড সিকিউরিটি অ্যালায়েন্সের ‘সাইবার রেজিলিয়েন্সি ইন দ্য ফাইন্যান্সিয়াল ইন্ডাস্ট্রি ২০২৪’ সমীক্ষায় সম্প্রতি এ তথ্য উঠে আসে। বিভিন্ন অঞ্চলের ৮৭২টি আইটি ও সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের থেকে নেয়া তথ্য বলছে, বর্তমানে ২২ শতাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাল্টি-ক্লাউড পরিষেবা ব্যবহার করছে। খবর টেকমনিটর।
মাল্টি-ক্লাউডের ব্যবহার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন ক্লাউড সেবা প্রদানকারী যেমন এডব্লিউএস, মাইক্রোসফট অ্যাজুর, গুগল ক্লাউডের মধ্যে কাজ ভাগ করার সুযোগ দেয়। ফলে একটি পরিষেবায় কোনো সমস্যা হলেও অন্যগুলোর মাধ্যমে কাজ চালিয়ে নেয়া সম্ভব হয়। তবে মাল্টি-ক্লাউডের ব্যবহার এখনো সীমিত, কারণ এটি ব্যয়বহুল ও প্রয়োগ করা জটিল। ক্লাউড সিকিউরিটি অ্যালায়েন্সের জরিপে অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, একাধিক ক্লাউড প্লাটফর্মকে সুরক্ষিত ও একীভূত সিস্টেমে পরিণত করা একটি জটিল কাজ, যা প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং ও ত্রুটিপ্রবণ। এসব সমস্যা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য মাল্টি-ক্লাউড পরিষেবা নিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়।
তবে অবকাঠামো ও নিয়মকানুনের পার্থক্যের কারণে ক্লাউড পরিষেবাগুলোর কার্যক্ষমতা ও সুরক্ষা বজায় রাখা নিয়ে চ্যালেঞ্জ বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন হয়। উত্তর আমেরিকায় উন্নত ক্লাউড সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও ৫৫ শতাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়। ইউরোপে জিডিপিআর ও আসন্ন ডিজিটাল অপারেশনাল রেজিলিয়েন্স অ্যাক্টের (ডোরা) মতো কঠোর নিয়মকানুন এসব সমস্যা কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। এদিকে এশিয়ায় শক্তিশালী ক্লাউড অবকাঠামোর কারণে চ্যালেঞ্জ মাঝারি মাত্রায় থাকে এবং অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানে নিয়মকানুন সংক্রান্ত বাধা তুলনামূলক কম।
এছাড়া জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (জেনএআই) এতে আরো কিছু জটিলতা সৃষ্টি করছে। কারণ এ প্রযুক্তি বিশাল পরিমাণ ডাটা সংরক্ষণ, প্রক্রিয়া ও বিশ্লেষণের জন্য ক্লাউড প্লাটফর্মের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। এক্ষেত্রে ২৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ডাটাসংক্রান্ত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেছে। ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সাইবার আক্রমণের জন্য জেনএআইয়ের অপব্যবহারের কথা বলেছে, যেমন স্বয়ংক্রিয় ফিশিং বা ম্যালওয়্যার তৈরি। এ বিষয়ে ক্লাউড সিকিউরিটি অ্যালায়েন্সের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার ট্রয় লিচ বলেছেন, ‘তৃতীয় পক্ষের ক্লাউড পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা ও ডাটার সুরক্ষা আর্থিক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখন সাপ্লাই চেইন ক্রমাগত সাইবার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে।’
ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও নতুন উদ্ভাবনের কারণে ক্লাউড পরিষেবার আওতা বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায় এ খাতে বিনিয়োগ ও ক্রেতাদের ব্যয়ের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিসের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ক্লাউড অবকাঠামো পরিষেবায় বৈশ্বিক ব্যয় বেড়েছে ২১ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে এ খাতে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ বাজারের শীর্ষ তিনটি ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়। এগুলো হলো অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস), মাইক্রোসফট অ্যাজুর ও গুগল ক্লাউড। আগের প্রান্তিকের মতোই জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এসব কোম্পানি নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। এদিকে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় আইডিসির দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছর শেষে ক্লাউড অবকাঠামো ব্যয় ১৩ হাজার ৮৩০ কোটি ডলারে পৌঁছবে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন