পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে ১ হাজার ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়ক নির্মাণ শুরু করতে যাচ্ছে আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস। আইভরি কোস্টের প্রধান শহর আবিদজান থেকে শুরু করে ঘানা, টোগো ও বেনিনের মধ্য দিয়ে নাইজেরিয়ার বৃহত্তম শহর লাগোস পর্যন্ত যাবে এ সড়ক। জোট নেতারা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো ‘কমন মার্কেট’ গড়ে তুলতে পরিবহন অবকাঠামোটি ভূমিকা রাখবে।
২০২৬ সালের সড়কটির নির্মাণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে তহবিলদাতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে মিলিত হন পশ্চিম আফ্রিকার নেতারা। সম্মেলনে ইকোওয়াস থেকে মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারের বেরিয়ে যাওয়া ঠেকাতে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক মহাসড়কটির নির্মাণ নিয়েও কথা বলেন তারা।
জোট নেতারা বলছেন, সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট ব্লকের মোকাবেলায় পশ্চিমারা ইউরোপে একটি ‘কমন মার্কেট’ গঠন করেছিল, যা পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রূপান্তর হয়। ইকোওয়াসও তেমনই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সামরিক অভ্যুত্থান ও উগ্র জাতীয়তাবাদের ঝড়ের মোকাবেলা করতে পারে।
আট বছর আগে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল বরাবর একটি আধুনিক পরিবহন করিডর নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন পায়। ওই সময় আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের নেতৃত্বে প্রকল্পটির জন্য প্রস্তুতিমূলক সমীক্ষা চালানো হয়। দীর্ঘদিন পর গত মাসে সে সমীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
২০৩০ সালের মধ্যে সড়কটির নির্মাণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি পশ্চিম আফ্রিকার বড় শহরগুলো যেমন আবিদজান, আকরা, লোমে, কোটোনো ও লাগোসকে সংযুক্ত করবে। প্রস্তাবিত চার-ছয় লেনের মহাসড়ক নির্মিত হলে প্রায় ৭০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
মহাসড়কের রুটের পাশে একটি রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনাও নিয়েছে ইকোওয়াস। রেলপথটি গিনি উপসাগরের প্রধান বন্দর শহরগুলোকে সংযুক্ত করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ প্রকল্প আঞ্চলিক অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলবে, ঠিক যেভাবে ইইউ ইউরোপে বাণিজ্য ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করেছে।
তবে ইকোওয়াস থেকে মালি, নাইজার ও বুরকিনা বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ব্লকের জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। অঞ্চলটির বেশির ভাগ মানুষ মনে করে, এ তিন দেশের সামরিক শাসকরা তাদের সিদ্ধান্ত স্থগিত বা পরিবর্তন করবে না। তবে সেনেগালের জাতীয়তাবাদী তরুণ প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিয়োমায়ে ফায় এখনো দেশগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন।
সাম্প্রতিক সংকটের আগে ইকোওয়াস আফ্রিকার সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সংহত আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে পরিচিত ছিল। মালি, বুরকিনা ও নাইজার বেরিয়ে গেলে ব্লকটি ৪৪ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার ৭ কোটি ৬০ লাখ ও তাদের ভৌগোলিক সীমানার অর্ধেকের বেশি হারাবে।
মহাসড়ক নির্মাণ সফল হলে ইকোওয়াস ভবিষ্যতে ওই দেশগুলোকে আবার ব্লকে ফিরে আসতে উৎসাহিত করতে পারবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
খবর : বিবিসি।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন