রুশ অপরিশোধিত জ্বালানির তেলের ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ডাচ ব্যবসায়ী নিয়েলস ট্রুস্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। অভিযোগে বলা হচ্ছে, পশ্চিমা দেশগুলোর বেঁধে দেয়া মূল্যসীমার ওপর রুশ জ্বালানি তেলের ব্যবসা করেছেন এ ব্যবসায়ী। ইউক্রেনে মস্কোর সর্বাত্মক আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় এ মূল্যসীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত নিয়েলস ট্রুস্ট হলেন প্রথম ইইউ নাগরিক, যাকে জোটটির এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইইউর এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন নিয়েলস ট্রুস্ট। তিনি দাবি করেন, সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদারের প্রচারণার ফল হিসেবে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ওই ব্যবসায়িক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগকে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছিল।
এদিকে এফটির অনুসন্ধানে জানা যায়, ট্রুস্টের কাছে নিজেকে সিআইএর গোপন এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন ব্যবসায়িক অংশীদার গৌরব কুমার শ্রীবাস্তব। আরো বলেছিলেন, মূল্যসীমার ওপর রুশ জ্বালানি তেল বিক্রির জন্য মার্কিন অর্থ বিভাগের লাইসেন্স এনে দিতে পারবেন। তবে ‘প্রতারণা’ আবিষ্কার করে গত বছরের মে মাসে অংশীদারত্ব থেকে সরে আসেন ট্রুস্ট এবং শ্রীবাস্তবের বিরুদ্ধে সম্মানহানির অভিযোগ তোলেন। অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রুস্টকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলেছেন শ্রীবাস্তব।
এর আগে ট্রুস্ট ও তার কোম্পানির পরিচালক ফ্রাঁসোয়া মউরনের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি ও ২০২২ সালের নভেম্বরে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাজ্য সরকার।
ইইউ বলছে, দুবাইভিত্তিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট ডিএমসিসির কাছে রুশ জ্বালানি তেলের ব্যবসা স্থানান্তর করেছিল ট্রুস্টের জেনেভাভিত্তিক কোম্পানি প্যারামাউন্ট এনার্জি অ্যান্ড কমোডিটিস। দুবাইয়ের কোম্পানিটি বেঁধে দেয়া মূল্য ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। উত্তরে নিয়েলস ট্রুস্ট জানান, আইনজীবীদের পরামর্শ অনুসারে তিনি জানতেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর মূল্যসীমা আইন প্রযোজ্য নয়, যদি না ইউরোপীয় মূল কোম্পানি সে কার্যক্রমে জড়িত থাকে। তাই নিয়েলস ট্রুস্ট ও প্যারামাউন্ট এসএ পুরোপুরি দুবাইয়ের কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।
ইইউ আরো জানিয়েছে, ট্রুস্টের সঙ্গে হংকংভিত্তিক চার্টার কোম্পানি লিভনা শিপিংয়ের সম্পর্ক রয়েছে। এ কোম্পানিও রুশ জ্বালানি তেলের মূল্যসীমার ওপর ব্যবসা করেছে।
খবর: এফটি।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন