ট্রাম্পের শুল্ক বাড়ানোর হুমকিতে উত্তেজনা বাড়ছে কানাডা-মেক্সিকো সম্পর্কে – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্পের শুল্ক বাড়ানোর হুমকিতে উত্তেজনা বাড়ছে কানাডা-মেক্সিকো সম্পর্কে

  • ০৮/১২/২০২৪

নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিকে কেন্দ্র করে কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, উভয় দেশ যদি তাদের যুক্তরাষ্ট্র সংলগ্ন সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে, তবে তিনি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। এ ঘোষণার পর কানাডার অবস্থান ও মেক্সিকোকে নিয়ে করা নানা মন্তব্যের জেরে কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে দুই দেশের।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর পরই কানাডিয়ান কর্মকর্তারা তাদের দেশের সীমান্ত সমস্যা মেক্সিকোর সমস্যা থেকে পৃথক বলে উপস্থাপন করেছেন। তারা যুক্তি দেন, দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার ও অবৈধ পারাপার অনেক বেশি। মেক্সিকো চীনা বিনিয়োগের জন্য উত্তর আমেরিকার ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে কাজ করছে।
কানাডার এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মেক্সিকো। কানাডার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম বলেন, ‘বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান থাকা উচিত। তিনি কানাডার ফেন্টানাইল ব্যবহারের মতো নিজস্ব সমস্যাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন।’ অন্যদিকে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের নেতা ডগ ফোর্ড বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে কানাডা ও মেক্সিকোকে একই দৃষ্টিতে দেখাটা অপমানজনক।’
কানাডিয়ান কর্মকর্তারা চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। তারা বলছেন, চীন মেক্সিকোকে ব্যবহার করে সস্তা পণ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকার বাজার প্লাবিত করছে। পরিবর্তে অক্টোবরে কানাডা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ঘোষণা অনুসরণ করে চীনে তৈরি বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। একই সঙ্গে চীনা ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পরিকল্পনা করেছে দেশটি।
অন্যদিকে মেক্সিকো এখনো চীনা পণ্যের ওপর তেমন কোনো কঠোর শুল্ক আরোপ করেনি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, উত্তর সীমান্ত দক্ষিণ সীমান্তের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এ ঘটনাগুলো কানাডা-মেক্সিকোর সম্পর্ককে জটিল করে তুলেছে। ঘটনাগুলোকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছে মেক্সিকো। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম তার দেশের মর্যাদা রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং সরাসরি সংঘাতে না যাওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছেন।
তবে মেক্সিকোকে চীনা পণ্যের গেটওয়ে হিসেবে ট্রুডো উপস্থাপন করলেও কানাডার নিজের সীমান্ত পরিস্থিতিও কিছুটা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। কানাডা ও মেক্সিকোর সীমান্ত পরিস্থিতি অবস্থাও ভিন্ন। যেমন কানাডার সীমান্তে অবৈধ পারাপার ও মাদক আটকানোর সংখ্যা মেক্সিকোর তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং মাদক আটকানোর ক্ষেত্রে রেকর্ড তৈরি করেছে।
খবর : বিবিসি।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us