চীনে প্রযুক্তি রপ্তানিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, তাদের তৈরি সেমিকন্ডাক্টর চীনের হাতে গেলে তা দিয়ে চীন নতুন অস্ত্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থার উন্নতি করতে পারে। আগামী মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণ করবেন। তার আগে বাইডেন প্রশাসন শেষ মুহূর্তে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ ঘটনায় আবারও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। ওদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিন পিং চীনকে প্রযুক্তি খাতের পরাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে স্বনির্ভর হওয়ার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চীনের কাছে দুই সেমিকন্ডাক্টর তৈরির দুই ডজন উপকরণ বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সেই সঙ্গে চীনের বিভিন্ন কোম্পানির কাছে মার্কিন প্রযুক্তি বিক্রির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, চীনের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশ ব্যাহত করা। অর্থাৎ এআই প্রযুক্তি বিকশিত করে চীন যেন যুক্তরাষ্ট্রে তা ব্যবহার করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করা। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, চীন এসব উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।
তবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্র মুখে এক কথা বলছে আর করছে অন্য কাজ। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে তারা বাড়াবাড়ি করছে।
জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা নেয়ার পর ২০২২ সালের অক্টোবরে চীনের কাছে এআই চিপ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ২০২৩ সালের অক্টোবরে ভিন্ন ধরনের এআই চিপও নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণা দেয় তারা। এরপর এবার তারা সেই নিষেধাজ্ঞার আওতা বৃদ্ধি করল। অর্থাৎ এ নিয়ে টানা তিন বছর চীনের কাছে চিপ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্বে ৫০ হাজার কোটি ডলারের বাজার সেমিকন্ডাক্টরের, ২০৩০ সাল নাগাদ যা ফুলেফেঁপে দ্বিগুণ আকার নেবে। এ বাস্তবতায় বেইজিং ৪৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে চিপ কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এআইয়ের মূল উপকরণ হচ্ছে এই চিপ।
খবর: এবিসি নিউজ।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন