এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম চলতি বছরের এ পর্যন্ত ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। শীতকাল সামনে রেখে প্রধান ব্যবহারকারী দেশগুলোয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এতে আগামী মাসগুলোয় এ পণ্যের দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গতকাল এক প্রতিবেদনে এমন মতামত প্রকাশ করেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বাজার বিশ্লেষক।
ইউরোপ ও এশিয়ার গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসছে। তাই এ অঞ্চলগুলোর আবহাওয়া মৃদু থাকলেও পুনরায় মজুদ বাড়ানোর তৎপরতা শুরু হলে পণ্যটির চাহিদা আরো বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার আগামী শীত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমার সম্ভাবনাও কম।
রয়টার্সের বিশ্লেষকের মতে, প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ ব্যয়ও বাড়িয়ে দেবে। এটি চীন, ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এমনকি শুরু হতে পারে মূল্যস্ফীতি।
প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়ায় কয়লাচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন গ্যাসের তুলনায় সাশ্রয়ী। তবে এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি কার্বন নিঃসরণ ঘটে। প্রসঙ্গত, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও উত্তর এশিয়ার দেশগুলোয় বৈশ্বিক প্রাকৃতিক গ্যাসের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ব্যবহার হয়। এ অঞ্চলগুলোয় শীতকালে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা বাড়ে। এতে বিশ্বব্যাপী পণ্যটির দাম বৃদ্ধি পায়।
এদিকে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীন, জাপান ও ইউরোপে গড় তাপমাত্রা চলতি মাসে গড়ের নিচে নামার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ফলে একযোগে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বাড়বে, যা মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। এলএসইজির তথ্যমতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ডিসেম্বরে গড় তাপমাত্রা মাইনাস ২ দশমিক ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। সাংহাই, টোকিও ও হংকংয়েও এ মাসে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকতে পারে।
সংস্থাটি আরো জানায়, গত ১ অক্টোবর থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সে সম্মিলিতভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ১১ শতাংশ কমেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এ অঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিম্নমুখী সরবরাহ পণ্যটির মজুদ কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে রয়টার্সের বিশ্লেষক জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ বেশি হওয়া সত্ত্বেও আগামী বছর তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেতে পারে, যা দাম বাড়ায় ভূমিকা রাখবে।
রয়টার্সের বিশ্লেষকের মতে, উচ্চ মূল্যের কারণে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিবর্তে এশিয়ার দেশগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়লেও ইউরোপে তা ঊর্ধ্বমুখীই থাকবে। ফলে বিশ্বব্যাপী শীতকাল পর্যন্ত পণ্যটির মূল্য হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন