অধিগ্রহণ চুক্তি করল অস্ট্রেলিয়ার দুই স্বর্ণখনি জায়ান্ট নর্দার্ন স্টার রিসোর্সেস ও ডি গ্রে মাইনিং। দেশটির দুই বৃহত্তম কোম্পানির এ চুক্তির মূল্য ৫০০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা ৩০২ কোটি ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বর্ণের দাম বাড়ায় এ খাতের কোম্পানিগুলো একীভূত হয়ে নিজেদের আরো শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত ছোট কোম্পানিগুলো অধিগ্রহণ ও একীভূতকরণ হচ্ছে। সে ধারার সর্বশেষ উদাহরণ প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি ডি গ্রে মাইনিংকে নর্দার্ন স্টার রিসোর্সেসের অধিগ্রহণ।
শেয়ারের বিনিময়ে এ চুক্তি সম্পন্ন হবে। এতে ডি গ্রের শেয়ারের বর্তমান বাজারদরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তি সম্পন্ন হলে ডি গ্রের শেয়ারহোল্ডাররা একীভূত কোম্পানির ২০ শতাংশের মালিক হবে।
গত বছর অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় স্বর্ণ খনি কোম্পানি নিউক্রেস্টকে ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে কিনে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউমন্ট। আগস্টে গোল্ড ফিল্ডস ১৬০ কোটি ডলারে কানাডার ওসিস্কো মাইনিং কিনে নিয়েছিল, যা নর্দার্ন স্টার ও ডি গ্রের চুক্তির মতোই বেশি দামে নির্ধারণ হয়েছিল। এছাড়া সেপ্টেম্বরে অ্যাংলোগোল্ড আশান্তি যুক্তরাজ্যে তালিকাভুক্ত সেন্টামিনকে ১৯০ কোটি পাউন্ডে কিনে নিতে চুক্তিবদ্ধ হয়।
অধিগ্রহণের খবরে নর্দার্ন স্টারের শেয়ারের দাম কমেছে ৫ শতাংশ ও ডি গ্রের শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশ। ডি গ্রে বোর্ডের সুপারিশের মাধ্যমে নর্দার্ন স্টার পিলবারার হেমি স্বর্ণখনির ওপর নিয়ন্ত্রণ পাবে। উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় লৌহ আকরিক সমৃদ্ধ অঞ্চল পিলবারায় হেমি খনি কোম্পানি প্রথম ১০ বছরে প্রতি বছর ৫ লাখ আউন্সেরও বেশি স্বর্ণ উৎপাদন করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় তালিকাভুক্ত স্বর্ণখনি কোম্পানিগুলোর অন্যতম নর্দার্ন স্টার। বড় কোম্পানি লাভজনক না হওয়া বা চ্যালেঞ্জপূর্ণ প্রকল্পগুলো থেকে সরে গেলেও নর্দার্ন স্টার অনুন্নত বা অবহেলিত সম্পদকে লাভজনকভাবে পরিচালনা করতে পারদর্শী। এ পদ্ধতির মাধ্যমে তারা স্বর্ণখনি শিল্পে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
নর্দার্ন স্টারের হাতে থাকা ফিমিস্টন ওপেন পিট নামে পরিচিত সুপার পিট স্বর্ণখনি ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ, ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার চওড়া ও ৬০০ মিটার গভীর। খনিটি আগে নিউমন্ট ও ব্যারিক গোল্ডের যৌথ মালিকানায় ছিল। ২০১৯ সালে নিউমন্টের অংশ কিনে নেয় নর্দার্ন স্টার এবং ২০২১ সালে স্যারাসেনের সঙ্গে একটি ১ হাজার ৬০০ ডলার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের চুক্তি করে, যারা ব্যারিকের শেয়ার কিনে নিয়েছিল। এর মাধ্যমে এ বিশাল খনি ১৩০ বছরের কাছাকাছি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একক মালিকানায় চলে আসে।
খবর : এফটি।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন