কভিড-১৯ মহামারী ও পরবর্তী স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরুত্থান ঘটেছে ব্রিটিশ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির। ২০২৩ সালে দেশটিতে সংগীতকেন্দ্রিক বাণিজ্য রেকর্ড ৭৬০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০০ কোটি পাউন্ড বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, মহামারীকালে যেকোনো ধরনের সমাগমে ছিল বিধিনিষেধ। এ সময় সামাজিক গণ্ডি থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষ নানা ধরনের মানসিক চাপে ভুগছিল। এ কারণে শ্রোতাদের মাঝে লাইভ কনসার্টের চাহিদা বাড়ে, যা এখন যুক্তরাজ্যের সংগীত শিল্পে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। সে সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন এলটন জন, বিয়ন্সে, কোল্ডপ্লে ও এড শিরানের মতো সুপারস্টাররা। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রির প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে বিশ্বব্যাপী ইউরোপীয় সংগীতের জনপ্রিয়তা। ব্রিটিশশিল্পীরা বিশ্বব্যাপী টপ চার্ট ও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মগুলোয় আধিপত্য ধরে রেখেছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সমৃদ্ধ লাইভ কনসার্ট সংগীতপ্রেমীদের আকৃষ্ট করেছে। ইউকে মিউজিক জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে এ শিল্পের মোট মূল্য ১৩ শতাংশ বেড়েছে। সংগীত রফতানি থেকে যুক্তরাজ্য গত বছর আয় করেছে রেকর্ড ৪৬০ কোটি পাউন্ড, যা ২০২২ সালে রেকর্ড ৪০০ কোটি পাউন্ড থেকে ১৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া আগের বছরের চেয়ে ৩ শতাংশ বেড়ে ২০২৩ সালে এ খাতে পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান ২ লাখ ১৬ হাজারে পৌঁছেছে। চিত্তাকর্ষক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও ব্রিটিশ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্ট্রিমিং জায়ান্টদের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা পুরনো ধাঁচের অর্থ প্রবাহে হুমকি হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া সফর ও রেকর্ডিংয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যয় শিল্পীদের, বিশেষ করে তৃণমূল স্তরের শিল্পীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এসবের পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি সুযোগ ও ঝুঁকি উভয়ই উপস্থাপন করছে। এআই সৃজনশীলতা ও সংগীত তৈরিতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে বলে অনেকের মত। তবে এটি কপিরাইট লঙ্ঘন ও মানব প্রতিভার সম্ভাব্য বিলুপ্তির বিষয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করে। তাই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাজ্যের সংগীত শিল্পকে ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য জরুরি প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে গ্রহণ, অর্থ প্রবাহকে বৈচিত্র্যময় করা ও উদীয়মান শিল্পীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ দিতে হবে।
খবর : দ্য গার্ডিয়ান
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন